আলিফ হোসেন, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি: রাজশাহী জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয়ের সার্ভেয়ার মিজানুর রহমানকে নিয়ে বিভিন্ন ফেসবুক পেজে যেসব তথ্য প্রচার করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানহানিকর। একটি গোষ্ঠী অবৈধ সুবিধা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে সার্ভেয়ার মিজানুর রহমান ও তাঁর পরিবারকে সামাজিকভাবে হেওপ্রতিপন্ন করতে সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ফেসবুক পেজে অপপ্রচার শুরু করেছে, যা সম্পূর্ণ বাস্তববর্জিত ও ভিত্তিহীন। এর আগে তানোর উপজেলা ভূমি অফিস ও মুন্ডুমালা অফিস নিয়েও অপপ্রচার করা হয়েছে। তাঁরা পরিকল্পিতভাবে এসব মিথ্যা, মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর গুজব ছড়িয়ে অফিস এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানহানি করছেন বলে দাবি করেছেন সার্ভেয়ার মিজানুর রহমান।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে সার্ভেয়ার মিজানুর রহমান বিভিন্ন ফেসবুক পেজে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

সম্প্রতি বিভিন্ন ফেসবুক পেজে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে—রাজশাহী ডিসি অফিসের সার্ভেয়ার মিজানুর রহমান অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ আহরণ, ব্যাংক ব্যালেন্স এবং বাগমারা ও রাজশাহীতে একাধিক ফ্ল্যাট নির্মাণ করেছেন। অথচ তিনি মাত্র তিন মাস আগে ডিসি অফিসে যোগদান করেছেন। এই সময়ের মধ্যে তিনি কীভাবে কী কাজে কোটি কোটি টাকা আয় করলেন? এছাড়াও সার্ভেয়ার পদে চাকরি করে কি কোটি কোটি টাকা আয় করা সম্ভব? আবার যেসব বাড়ি ও ফ্ল্যাটের ছবি দেখানো হয়েছে, সেগুলো তাঁর নয়। আবার এসব অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট বা লিখিত কোনো তথ্য-প্রমাণ নেই। অথচ তাঁকে দুর্নীতিবাজ বলা হয়েছে, কিন্তু আদালত কর্তৃক কেউ দুর্নীতির মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত না হলে তাঁকে আদৌ কি দুর্নীতিবাজ বলা যায়?

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সার্ভেয়ার মিজানুর রহমান এর আগে বগুড়া, জয়পুরহাট ও গোমস্তাপুরসহ যেখানে যেখানে চাকরি করেছেন, সেখানকার অফিস ঘুষমুক্ত ঘোষণা করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার একটি বিত্তশীল ও সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নিয়েছেন মিজানুর রহমান। মিজানুর রহমানের বাবা অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, তাঁর স্ত্রী নবম গ্রেডে চাকরি করেন। তিনিও সরকারি চাকুরিজীবী। এছাড়াও মিজানুর রহমানের বাবা ও তাঁর পরিবার জন্মসূত্রে বিত্তশীল।

অথচ মিজানুর রহমান কার কাছ থেকে কবে কখন কী কাজে কত টাকা ঘুষ নিয়েছেন, কোন ব্যাংকে তাঁর নামে কত টাকা রয়েছে, তিনি চাকরির টাকায় কোথায় ফ্ল্যাট বা প্লট কিনেছেন—ইত্যাদির কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ নেই। তাহলে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ব্যতিত একজন সরকারি দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে এমন মানহানিকর অপপ্রচার কতটা যুক্তিযুক্ত, সেই প্রশ্ন সচেতন মহলের।

এদিকে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন মিজানুর রহমানের সহকর্মীরাও। তাঁরা বলেন, একটি গোষ্ঠী অবৈধ সুবিধা আদায়ে ব্যর্থ হলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (ফেসবুক) অফিস ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে নানা ধরনের গুজব ছড়ানোর পাশাপাশি অপপ্রচার শুরু করে। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি।