তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী মোহনপুরের কেশরহাট পৌর এলাকায় নতুন সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে। নতুন সার ডিলার নিয়োগের পর এ নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী, বিএনপির নেতাকর্মী ও বঞ্চিত আবেদনকারীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে ওমর ফারুকের ডিলারশিপ বাতিল করে নতুন ডিলার নিয়োগের দাবিতে কয়েকজন আবেদনকারী ডাকযোগে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রী, কৃষি সচিব ও রাজশাহী জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, কেশরহাট পৌরসভায় নতুন সার ডিলার হিসেবে মেসার্স সোহাগ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ওমর ফারুক নিয়োগ পেয়েছেন। যিনি আওয়ামী মতাদর্শী, সুযোগ-সন্ধানী ও যার রাজনৈতিক জীবনটাই পালাবদলের। কৃষকদের আশঙ্কা, এর ফলে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার प्राप्ति সহজ তো হবেই না, বরং সার সংকট সৃষ্টি হবে।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেশরহাট পৌর বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, কেশরহাট পৌরসভায় সার ডিলার দেওয়া হয়েছে ওমর ফারুককে। অথচ সে ৫ আগস্টের আগে কোনো দিনই বিএনপির কোনো কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ বা কোনো সহযোগিতা করেনি। বরং আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আয়েন উদ্দিনের ঘনিষ্ঠ সহচর ও আওয়ামী লীগের অর্থদাতা হিসেবে তিনি পরিচিত। কিন্তু তাকে সার ডিলার দেওয়ায় এতে বিএনপির মানক্ষুণ্ণ হয়েছে। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছে, ওমর ফারুকের পুত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুহসিন হলের ছাত্রলীগের পদধারী নেতা ছিল। তাঁর শ্যালক মুস্তাক কেশরহাট পৌর যুবলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন, তিনি নিজেও আওয়ামী লীগের ডোনার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তারা বলেন, সার ডিলারের নামে ওমর ফারুকের এই ডিলারের আসল মালিক হলো যুবলীগ নেতা মুস্তাক। মুস্তাকের টাকা নিয়ে এই ডিলার নিয়েছে ওমর ফারুক। এই যদি হয় বিএনপির অবস্থা! তাঁর পুত্র ছাত্রলীগ করে, শ্যালক যুবলীগ নেতা মুস্তাক। এদের যদি ডিলার হয়, তবে নির্যাতিত নেতাকর্মীর মূল্যায়ন কবে হবে? পৌর বিএনপির এক নেতা বলেন, এমপি সাহেবের কাছে অনুরোধ, এর ডিলার বাতিল করে বিএনপির নির্যাতিত নেতাকর্মীদের দেওয়া হোক। না হলে কঠোর পদক্ষেপ নেবে তৃণমূলের বিএনপির নির্যাতিত নেতাকর্মীরা। আপনারা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এসব আওয়ামী লীগ মোস্তাকদের প্রতিহত করুন। না হলে এরা বিএনপিকে ধ্বংস করে দিবে।

এদিকে স্বাধীনভাবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে স্বাধীনভাবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

অন্যদিকে ওমর ফারুকের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কেশরহাট বাজারে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তাঁর পরিবারও দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তিনি পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর পরিবারের দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তাঁরা বিভিন্ন মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কেশরহাট বাজারে তাঁদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়েছে।

এদিকে কৃষক শামসুদ্দিন, সহিদুল, আবুল কাশেমসহ অনেকে বলেন, আওয়ামী মতাদর্শী ফারুককে নতুন ডিলার নিয়োগের ফলে কৃষকেরা সহজে ও সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার তো পাবেন না, বরং সার নিয়ে সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। তারা ওমর ফারুকের ডিলারশিপ বাতিল করে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও কৃষকদের মতামতের ভিত্তিতে ডিলার নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।