রাশিয়ায় মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনা বাড়ছে। ফলে ল্যান্ডফোনের ব্যবহার বাড়াচ্ছে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে দেশটির সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ল্যান্ডফোন কিনতে অনেক বেশি অর্থ খরচ করেছে। আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে এই খরচ তিন গুণের বেশি।

রুশ সংবাদমাধ্যম ভেদোমস্তি এ তথ্য জানিয়েছে। তাদের হিসাবে, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ল্যান্ডফোন কেনায় খরচ হয়েছে ১১ কোটি ৮০ লাখ রুবল। এটি প্রায় ১২ লাখ ৬০ হাজার ইউরোর সমান। এই সময়ে ল্যান্ডফোন কেনার দরপত্রও বেড়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।

২০২৫ সালের মে মাস থেকে রাশিয়ায় নিয়মিত মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, ইউক্রেনের ড্রোন হামলা ঠেকাতে এই বিধিনিষেধ দরকার। তবে বিশেষজ্ঞদের মত ভিন্ন। তাঁরা বলছেন, ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলেও ড্রোন আগে থেকে ঠিক করা পথে উড়তে পারে।

ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। ব্যাংকিং সেবা ব্যাহত হচ্ছে। ট্যাক্সি ও খাবার পৌঁছে দেওয়ার সেবাও ঠিকমতো চলছে না। পথ খুঁজে পেতেও সমস্যা হচ্ছে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান রোস্তেলেকমের প্রধান মিখাইল ওসেয়েভস্কি একটি পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের মতো প্রতিটি বাড়িতে একটি ল্যান্ডফোন থাকা উচিত। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভও জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে যোগাযোগের জন্য ল্যান্ডফোন ব্যবহার হয়।

রাশিয়ায় এখন প্রতি ১০০ জনে প্রায় ১২ দশমিক ২টি ল্যান্ডফোন আছে। তবে দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের পূর্বাভাস অন্যরকম। তাদের মতে, ২০২৯ সালের মধ্যে এই সংখ্যা কমে ৮ দশমিক ২ থেকে ৮ দশমিক ৫-এ নামতে পারে।