নাঈমুল ইসলামঃ
লায়ন্স ক্লাব অব রংপুরের কার্যালয়ে পাল্টাপাল্টি তালা লাগিয়েছে বিবাদমান মনজিল মুরাদ লাভলু ও আবিদ আহমেদ রুমি গ্রুপ। এ সময় তিনজন নিরাপত্তাকর্মীকে মারধর ও চেয়ার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রংপুর লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভেতরে ক্লাবটির কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যায় ক্লাবটির দখল নিতে আবিদ আহমেদ রুমি ও আখলাকুর রহমান তারেকের নেতৃত্বাধীন কমিটির ৪০ থেকে ৫০ জন ব্যক্তি স্কুলের গেট টপকে ক্লাবের তালা ভেঙে অফিসে প্রবেশ করেন। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থানের পর ছবি তুলে নিজেদের তালা লাগিয়ে চলে যান। পরে সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন।
এ সময় নিরাপত্তাকর্মী পলাশ, আশরাফুল ও গোলাম রব্বানীকে মারধর এবং চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। এ খবর পাওয়ার পর মনজিল মুরাদ লাভলু ও আহসানুল হাবিব মিলনের নেতৃত্বাধীন কমিটির লোকজন আবার ঘটনাস্থলে গিয়ে অপর পক্ষের তালা ভেঙে নিজেদের তালা লাগিয়ে দেন।
আহত নিরাপত্তাকর্মী পলাশ চন্দ্র দাস জানান, ‘আমরা তখন গেটের ভিতরে ছিলাম। কে বা কারা বলতেছে গেটটা খোলো। আমরা বলছি আজকে বন্ধের দিন, গেট খোলা যাবে না, গেট বন্ধ আছে। ওরা কয় গেট খোলো। আমরা গেট খুলি নাই। গেটের ওপর দিয়া ঝাঁপ দিয়ে আসে। প্রথমে আমাকে মারে। পরে অপর কর্মী আশরাফুল ইসলামের হাতে আঘাত করে চাবি নেয়। এ সময় তারা আমার ইনচার্জ রব্বানীকেও মারধর করে। পরে তারা ক্লাবের তালা খুলে সেখানে বসে। ওরা ৪০/৫০ জন এসেছিল। বিষয়টি আমরা প্রিন্সিপাল স্যারকে জানিয়েছি।’
এক পক্ষের সভাপতি মনজিল মুরাদ লাভলু বলেন, ‘আবিদ আহমেদ রুমি ও আখলাকুর রহমান তারেক লায়ন্স ক্লাবের ওয়েবসাইটের পাসওয়ার্ড হ্যাক করে আমাদের ছবি ওয়েব থেকে তুলে নিজেদের ছবি দেয় এবং একটি কথিত কমিটি করে। যার মধ্যে রুমি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা চেষ্টার মামলার আসামি। বিষয়টি নিয়ে আমরা সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছি। কিন্তু তারা বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে স্কুলের সিকিউরিটি গার্ডদের ওপর হামলা করে অফিসের তালা ভেঙে প্রবেশ করে ফটোসেশন করে পালিয়ে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা এসে ওই তালা ভেঙে আবারও তালা লাগিয়ে দিয়েছি এবং জরুরি বৈঠক করেছি।’ মনজিল মুরাদ লাভলু আরও বলেন, ‘আমাদের কমিটি বৈধ। তারা আইনগতভাবে মোকাবিলা না করে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় সন্ত্রাসী কায়দায় আন্তর্জাতিক একটি সংগঠন দখল করতে চাইছে।’
অপর পক্ষের সভাপতি আবিদ আহমেদ রুমি বলেন, ‘মনজিল মুরাদ লাভলু ও আহসান হাবিব মিলন অবৈধ কমিটি। একটি ইন্টারন্যাশনাল প্রতিষ্ঠানের পাসওয়ার্ড কখনও হ্যাক হয় না। তারা সন্ত্রাসী কায়দায় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এই প্রতিষ্ঠানটি দখলে রেখে দুর্নীতি ও লুটপাটে মেতে উঠেছে। এরই মধ্যে এদের গডফাদার এনামুল হক সোহেলের নামে ১৫ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলা হয়েছে। এরা সবাই ফ্যাসিবাদের দোসর।’
তিনি আরও বলেন, ‘তৎকালীন সময় থেকে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমাদেরকে প্রতিনিয়ত তারা পিটায় আসতেছে এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসতেছে। প্রশাসনিকভাবেও আমাদেরকে হয়রানি করে আসতেছে। আমরা এই হয়রানির অবসান চাই।’
আবিদ আহমেদ রুমি বলেন, ‘আমরা এই হয়রানির মনে করেন যে গভমেন্ট প্রতিহত করতে আমরা আবেদন করি। আমরা সরকারের প্রশাসনিকভাবে এবং সমস্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আমরা জানাতে জানাতে চাই, এই সব দুর্নীতিবাজ লোকদের দুর্নীতির হাত থেকে সন্ত্রাসীটির হাত থেকে, আমরা যেন নিস্তার পাই।’