মোঃ ইকবাল হোসেনঃ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ইছাপাশা এলাকায় অবস্থিত ইছাপাশা কাদেরিয়া হাফেজিয়া নূরানী মাদ্রাসা ও এতিমখানায় অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ, স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৯টায় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
মাদ্রাসার সেক্রেটারি ও পাশ্ববর্তী কাশিয়ানী উপজেলার জয়নগর কলেজের সহকারী অধ্যাপক গোলাম মুর্তজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিকিৎসক ডা. সুমন রায়।
সমাবেশে ডা. সুমন রায় শিক্ষার্থীদের শারীরিক সুস্থতা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রোগ প্রতিরোধ বিষয়ে সচেতনতামূলক বক্তব্য দেন। বিশেষ করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, কোথাও পানি জমতে না দেওয়া এবং মশার বংশবিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি বলেন, শিশুদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা ও পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং রোগ প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা গড়ে তুলতে পারলে তারা নিজেরা যেমন উপকৃত হবে, তেমনি পরিবার ও সমাজেও সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে পারবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মাদ্রাসার সহসভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মুন্সী বেলাল হুসাইন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য কেবল ভালো ফলাফল অর্জন নয়; বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা, শৃঙ্খলাবোধ, দায়িত্বশীলতা, মানবিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানো। এ জন্য শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সন্তানদের পড়াশোনা ও আচরণের প্রতি নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি ও শিক্ষার্থীদের সাফল্য নির্ভর করে শিক্ষক, অভিভাবক ও পরিচালনা পর্ষদের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর। শিক্ষার্থীদের মেধা ও যোগ্যতা বিকাশে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে। যারা ভালো ফলাফল করছে, তাদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের প্রতিও বিশেষ যত্ন নিতে হবে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়াশোনার আগ্রহ বাড়বে এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি হবে।
মুন্সী বেলাল হুসাইন শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা, সময়ের সদ্ব্যবহার ও শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণে অভিভাবকদের সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি আব্দুল্লাহ আল মামুন। সমাবেশের শেষপর্বে মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাদের মেধা ও সাফল্যের স্বীকৃতি প্রদানের একটি উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয়।
অভিভাবক সমাবেশে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মানোন্নয়ন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং মাদ্রাসার সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।