আসাদুর রহমান হাবিবঃ
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের পূর্ব রাজারামপুর আদর্শ কলেজপাড়া গ্রামের দিনমজুর রিক্সাচালক খোকনের বসতবাড়িতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে,আগুনে ঘরের আসবাবপত্রসহ চারটি গবাদিপশু পুড়ে মারা গেছে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন পরিবারটি।
ভুক্তভোগী পরিবার সুত্রে জানা গেছে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে হঠাৎ তাঁরা ঘরে আগুন দেখতে পেয়ে চেঁচামেচি করেন,তাঁদের চেঁচামেচি শুনে প্রতিবেশীরা বেরিয়ে আসেন ফায়ার সার্ভিসে খবর দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন,কিন্তু আগুনের তীব্র শিখা মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়লে ঘর বারান্দা গোয়াল ঘরসহ বসতবাড়িটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়।
এই ঘটনায় স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বললে তাঁরা জানান আগুনে পুড়ে পুরো বাড়ির আসবাবপত্র কাপড় চোপড় পুড়ে ছাই হয়ে গেছে,গোয়াল ঘরে থাকা একটি গর্ভবতী গাভী একটি বকনা বাছুর ও দুইটি ভেড়া আগুনে পুড়ে নির্মমভাবে মারা যায়,কিন্তু পাশে থাকা একটি ঝুপড়ি ঘরে অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন রিক্সাচালক খোকনের প্রতিবন্ধী মা,তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন।
স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন কয়েকশত গজ দূরে ফুলবাড়ী সিভিল ডিফেন্স স্টেশন এতো কাছে থাকা সত্ত্বেও তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে আসতে পারেননি তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই শেষ সম্বল গবাদিপশু সহ সবকিছু শেষ হয়ে গেছে সর্বস্ব হারিয়ে খোলা আকাশের নীচে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন রিক্সাচালক খোকন ও তাঁর পরিবার,তাহলে অগ্নিকাণ্ডে মোকাবেলায় জনসাধারণের নিরাপত্তা কোথায় আমরা কি ধরে নেব তাঁরা নাম মাত্র ফায়ার সার্ভিস কর্মী রয়েছেন তাঁদের ইচ্ছায়।
ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শন করেন শিবনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ছামেদুল ইসলাম মাস্টার তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির খোঁজখবর নেন তাৎক্ষণিকভাবে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নগদ কিছু আর্থিক সহায়তা প্রদান করে পরিবারটির পাশে থাকার দৃঢ় আশ্বাস দেন।
এই দুর্ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে চেয়ারম্যান মোঃ ছামেদুল ইসলাম মাস্টার জানান,দুর্ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক বিষয়টি জেলা প্রশাসক স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)কে তাৎক্ষণিকভাবে অবগত করা হয়েছে,সরকারি তহবিল থেকে ওই পরিবারটিকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি হতদরিদ্র দিনমজুর রিক্সাচালক খোকনের বসতবাড়িসহ শেষ সম্বল গবাদিপশুগুলো অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হয়ে গেছে খোকনের পরিবার ও তাঁর প্রতিবন্ধী মায়ের চলার পথ এক নিমেষে থামিয়ে দিয়েছে,অসহায় এই পরিবারটির ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও বিত্তবানদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আকুল আবেদন জানিয়েছেন এলাকাবাসী।