মোঃ ইকবাল হোসেন:
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বহুল আলোচিত চা-দোকানি রবিউল শেখ ওরফে পাইচো হত্যা মামলার ১৫ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি মারুফ শেখকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশ।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাকে ফরিদপুরের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে শনিবার গভীর রাতে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় যশোরের কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার মারুফ শেখ আলফাডাঙ্গা উপজেলার বড়ভাগ গ্রামের মৃত জান্নাত শেখের ছেলে।
এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কাশিয়ানী-আলফাডাঙ্গা সড়কের মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত রবিউল বড়ভাগ গ্রামের বাসিন্দা এবং পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলা সদর বাজারে চা বিক্রি করতেন। ঘটনার রাতে দোকান বন্ধ করে নিজ গ্রামের কয়েকজনের সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য কুদ্দুস শেখের ছেলে হোসাইন শেখের নেতৃত্বে একদল হামলাকারী দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ঘটনাস্থলেই রবিউল শেখ নিহত হন এবং তাঁর সঙ্গে থাকা আরও তিনজন গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনার দুই দিন পর নিহতের ভাতিজা নাজমুল শেখ বাদী হয়ে ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, উপজেলার বড়ভাগ গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে চলতি বছরের ২৬ জুন সুমন শেখ (৩০) নামে এক যুবককে হত্যা করা হয়। নিহত চা-দোকানি রবিউল ছিলেন সুমনের চাচা। সুমন হত্যা মামলার আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে সাত সপ্তাহের আগাম জামিন নিয়ে এলাকায় ফেরার পর নতুন করে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানান।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে আলফাডাঙ্গা থানার ওসি মো. সোহেল সারোয়ার জানান, রবিউল হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ১৫ নম্বর আসামিকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনতে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দ্রুতই অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।