আব্দুল হামিদ মিঞা:
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার কিশোরপুর গ্রামে পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তির বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় হাফিজ নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
জানা গেছে, কিশোরপুর শেখপাড়া এলাকায় পাশাপাশি বাড়িতে বসবাস করেন হাফিজ ও রিকসোনা। রিকসোনার স্বামী কালু মাতব্বর ও বড় ছেলে উসমান মালয়েশিয়া প্রবাসী। তিনি বাড়িতে ছেলে আবু বক্করকে নিয়ে থাকেন। অন্যদিকে হাফিজ বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে পাশের বাড়িতে বসবাস করেন। তারা এক যুগেরও বেশি আগে উপজেলার আতারপাড়া চর অঞ্চলে বসবাস করতেন। পরে পাকুড়িয়া ইউনিয়নের কিশোরপুর শেখপাড়ায় বসতি স্থাপন করেন। রিকসোনা সম্পর্কে হাফিজের ফুফু বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, পাশাপাশি বাড়িতে বসবাসের সুবাদে হাফিজ ও রিকসোনার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে গোপনে অনৈতিক সম্পর্ক ছিল। শুক্রবার রাতে রিকসোনার ছেলে আবু বক্করের অনুপস্থিতির সুযোগে হাফিজ তার বাড়িতে যান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। রাত ১১টার দিকে মায়ের সঙ্গে হাফিজকে দেখে আবু বক্কর তার ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে হাফিজ গুরুতর আহত হন। তবে অন্য একটি দাবি অনুযায়ী, জানালা ভেঙে পালিয়ে যাওয়ার সময় আহত হন তিনি।
স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, হাফিজুর রহমান হাফিজ রাজশাহী কলেজ শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের দায়িত্বশীল পদে ছিলেন।
পাকুড়িয়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি নবিউল ইসলাম নবী জানান, হাফিজ রাজশাহী জেলায় ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও বাঘা উপজেলায় শিবির বা জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। তিনি বলেন, হাফিজ রাজশাহী ইবনে সিনা হাসপাতালে চাকরি করতেন বলে শুনেছেন। গুরুতর আহত হওয়ার পর তাকে ওই হাসপাতাল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। হাতের রগ কেটে যাওয়ায় তার অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তবে হাফিজ ও রিকসোনার মধ্যে সম্পর্ক ছিল বলে শুনেছেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে, ঘটনার জের ধরে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে আবু বক্করসহ বিক্ষুব্ধ জনতা হাফিজের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে স্থানীয় লোকজন আগুন নিভিয়ে ফেলেন। এতে ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
শনিবার বিকেলে সরেজমিনে হাফিজ ও রিকসোনার বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। রিকসোনার বাড়ি তালাবদ্ধ ছিল। তবে হাফিজের বাড়ির দুটি কক্ষে আগুনের ধোঁয়ার চিহ্ন দেখা যায়। পরবর্তীতে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সজল, আরিফসহ কয়েকজন জানান, অনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখে ফেলায় আবু বক্কর ধারালো হাঁসুয়া দিয়ে হাফিজকে কুপিয়ে জখম করেন। আবার কেউ কেউ দাবি করেন, পালিয়ে যাওয়ার সময় আহত হন হাফিজ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেরাজুল হক জানান, পরবর্তী অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।