ইসমাইল হােসেন বাবুঃ

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন মাহবুব উল আহসান উল্লাস নামের এক সাংবাদিক। এ ঘটনায় করা মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের এলঙ্গী এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। আজ রোববার সকালে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেনের চাচা আমিরুল ইসলাম (৫৫) এবং তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) পরিচয়দানকারী মারুফ হোসেন (৩৫)।

 

কুষ্টিয়ায় এমপির ছেলে ও ভাইয়ের নেতৃত্বে সাংবাদিক পেটানোর অভিযোগকুষ্টিয়ায় এমপির ছেলে ও ভাইয়ের নেতৃত্বে সাংবাদিক পেটানোর অভিযোগ আজ রোববার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন।

 

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুরে কুমারখালী পৌরসভার কালীবাড়ী মন্দিরের সামনে সড়ক নির্মাণকাজের অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে যান বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলা টিভির কুমারখালী-খোকসা প্রতিনিধি মাহবুব উল আহসান উল্লাস। এ সময় তাঁর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

 

পরে সন্ধ্যায় বাদী হয়ে কুমারখালী থানায় হত্যাচেষ্টা আইনে মামলা করেন উল্লাস। মামলায় সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের ছেলে শোভন হোসেন, চাচা আমিরুল ইসলাম, চাচাতো ভাই আনোয়ার হোসেন ও পিএস পরিচয়দানকারী মারুফ হোসেনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

 

হামলার শিকার সাংবাদিক উল্লাস অভিযোগ করে বলেন, নানা অভিযোগে পৌর কর্তৃপক্ষ সড়কের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রভাব খাটিয়ে সংসদ সদস্যের ছেলে, ভাই ও স্বজনেরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারসহ বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করতে গেলে আমার ওপর হামলা চালানো হয়।’

 

হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু মনি জুবায়েদ রিপন বলেন, ‘মামলার আসামিরা যতই ক্ষমতাশালী হোক, তাঁদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সাংবাদিকেরা কঠোর আন্দোলনে যাবেন।’

 

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, ‘সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় হত্যাচেষ্টা আইনে একটি মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

 

এদিকে সাংবাদিক উল্লাসের ওপর হামলার ঘটনায় আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়ন-কেইউজে। মানববন্ধনে জেলায় কর্মরত সাংবাদিকেরা অংশ নেন।

 

মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতারা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

 

মানববন্ধনে কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু বলেন, সাংবাদিকেরা কারও প্রতিপক্ষ নন। সংবাদ সংগ্রহের কারণে কোনো সাংবাদিককে হামলার শিকার হতে হবে, এটি মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সাংবাদিকেরা কঠোর কর্মসূচি দেবেন।