এস. এম সালমান কবীর হৃদয়ঃ

‎বগুড়ার কাহালু উপজেলার ৪নং নারহট্ট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন এ কে এম রায়হান। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় ছাত্র রাজনীতি থেকে যুবদল হয়ে বিএনপির মূলধারার রাজনীতিতে উঠে আসা এ নেতা সততা, নিষ্ঠা, পরিশ্রম, সাংগঠনিক দক্ষতা ও কর্মীবান্ধব নেতৃত্বের মাধ্যমে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।

 

‎এ কে এম রায়হান বর্তমানে ৪নং নারহট্ট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং কাহালু উপজেলা বিএনপির সহ-ধর্মীয় সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। এরপর যুবদলের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে বিএনপির মূল সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রেখে চলেছেন।

 

‎রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন এ কে এম রায়হান। স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে তিনি একজন পরিশ্রমী, সৎ, যোগ্য, নিষ্ঠাবান ও কর্মীবান্ধব রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। এলাকার মানুষের বিভিন্ন সমস্যা, প্রত্যাশা ও নাগরিক সুবিধার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন বলে তাঁর সমর্থকদের দাবি।

 

‎আসন্ন ৪নং নারহট্ট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়ে এ কে এম রায়হানের মূল লক্ষ্য একটি আধুনিক, মডেল, উন্নয়নশীল, সুখী ও সমৃদ্ধ নারহট্ট ইউনিয়ন গড়ে তোলা। নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের মানুষের মতামত ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চান তিনি।

 

‎এ কে এম রায়হানের পরিকল্পনায় রয়েছে ইউনিয়নের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার ও নির্মাণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, কৃষকদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা, তরুণদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ, নারীদের স্বাবলম্বী করে তোলা এবং দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করা।

 

‎তিনি মনে করেন, একটি ইউনিয়নের প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন উন্নয়নের সুফল দল-মত নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। জনপ্রতিনিধিকে জনগণের কাছাকাছি থেকে কাজ করতে হবে এবং ইউনিয়ন পরিষদকে হতে হবে মানুষের সমস্যা সমাধানের প্রথম আশ্রয়স্থল। তাই তিনি নারহট্ট ইউনিয়ন পরিষদকে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব পরিষদ হিসেবে গড়ে তুলতে চান।

 

‎এ কে এম রায়হানের রাজনৈতিক আদর্শের অন্যতম ভিত্তি মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ। একই সঙ্গে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গণতন্ত্র, দেশপ্রেম ও রাজনৈতিক সংগ্রামের দর্শন তাঁকে অনুপ্রাণিত করে বলে তিনি মনে করেন।

 

‎বর্তমানে বিএনপির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জনাব তারেক রহমান। তাঁর নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় দেশকে একটি আধুনিক, উন্নয়নশীল ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতে চান এ কে এম রায়হান। একইভাবে নারহট্ট ইউনিয়নকেও আধুনিক ও মডেল ইউনিয়নে রূপান্তর করার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

 

‎এ কে এম রায়হান মনে করেন, বর্তমান সময়ে ইউনিয়ন পর্যায় থেকেই উন্নয়ন ও জনসেবার নতুন ধারা তৈরি করা প্রয়োজন। প্রযুক্তিনির্ভর নাগরিক সেবা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে ইউনিয়ন পরিষদকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করা সম্ভব। এ লক্ষ্যেই তিনি নারহট্ট ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে চান।

 

‎এ কে এম রায়হান বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে যুবদল এবং বর্তমানে বিএনপির মূলধারায় কাজ করছি। রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য মানুষের সেবা করা। জনগণ আমাকে সুযোগ দিলে দল-মত নির্বিশেষে নারহট্ট ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে চাই।”

 

‎তিনি আরও বলেন, “আমার স্বপ্ন একটি আধুনিক, মডেল, সুখী ও সমৃদ্ধ নারহট্ট ইউনিয়ন। যেখানে সাধারণ মানুষ সহজে নাগরিক সেবা পাবেন, তরুণরা কর্মমুখী হবে, কৃষক তার ন্যায্য সহযোগিতা পাবেন, শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হবে এবং অসহায় মানুষ প্রয়োজনের সময় জনপ্রতিনিধিকে পাশে পাবেন।”

 

‎এলাকার রাজনৈতিক অঙ্গনে এ কে এম রায়হানের চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি ইতোমধ্যে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক ভূমিকা, কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ইউনিয়নকে আধুনিক মডেল ইউনিয়নে রূপান্তরের পরিকল্পনা আগামী নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

 

‎তবে এ কে এম রায়হানের প্রত্যাশা—দলীয় নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের জনগণের ভালোবাসা, দোয়া ও সমর্থন নিয়ে নির্বাচিত হয়ে তিনি নারহট্ট ইউনিয়নের মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ পাবেন। তাঁর লক্ষ্য শুধু নির্বাচনে জয়লাভ নয়; বরং জনগণের আস্থা অর্জন করে একটি সুন্দর, উন্নত, আধুনিক, সুখী ও সমৃদ্ধ নারহট্ট ইউনিয়ন গড়ে তোলা।