তরিকুল ইসলাম মোস্তফাঃ

 

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়নে কারখানা নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। অব্যাহত ভাঙনে নদীতীরবর্তী তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এখন মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে চররঘুনাথদ্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীর তীর থেকে মাত্র ২০–২৫ ফুট দূরে অবস্থান করছে। দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধ করা না গেলে যেকোনো সময় বিদ্যালয়টির একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

 

ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা অপর দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো—হিসাজাত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পশ্চিম কাছিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্থানীয়দের দাবি, গত এক মাসে পশ্চিম কাছিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের প্রায় ৫০ ফুট জায়গা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের ভবন, খেলার মাঠ ও আশপাশের বসতবাড়ি চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

 

স্থানীয়দের উদ্বেগ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কারখানা নদীতে দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও সাম্প্রতিক সময়ে এর তীব্রতা বেড়েছে। নদীর পাড় ভেঙে বিদ্যালয়গুলোর একেবারে কাছাকাছি চলে আসায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে চররঘুনাথদ্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীর তীর থেকে মাত্র ২০–২৫ ফুট দূরে থাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা। অন্যদিকে পশ্চিম কাছিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের অংশও প্রতিনিয়ত নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।

 

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধ করা না গেলে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং নদীতীরবর্তী বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়বে। এতে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হতে পারে।

 

জনপ্রতিনিধি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বক্তব্য বিষয়টি নিয়ে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “নদীভাঙন একেবারে তীরের নিকটে চলে আসছে। অতি শিগগিরই এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বলব।”

 

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপপ্রকৌশলী নাহিদ জানান, কারখানা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকার তিনটি বিদ্যালয়ই বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছে। ইতোমধ্যে একটি টিম ভাঙনপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন করেছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমীক্ষা চলছে। তিনি বলেন, “জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলার প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুম শেষ হলে স্থায়ীভাবে নদীভাঙন রোধে কী ধরনের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে বিষয়েও পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।”

 

স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতেই প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

জরুরি প্রতিরোধের দাবি

স্থানীয়দের দাবি, বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আগেই কারখানা নদীর ভাঙন রোধে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলোর সামনে দ্রুত জিওব্যাগ ও বালুভর্তি বস্তা ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে কারখানা নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল।

 

তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে শুধু বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোই নয়, শত শত শিক্ষার্থীর শিক্ষা ও নিরাপত্তাও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে পারে।