জাকির হোসেন হাওলাদারঃ
‘রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে।
সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অনুষদের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একাডেমিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
পরে সেখানে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ফিশারিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. সাজেদুল হকের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এবিএম সাইফুল ইসলাম, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান এবং রেজিস্ট্রার প্রফেসর মোহাম্মদ জামাল হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান বলেন, বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। আমাদের সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও পুষ্টির অন্যতম প্রধান উৎস মৎস্য সম্পদ।
তিনি বলেন, যুগের পর যুগ আমরা নদীকে শুধু শাসন করার চেষ্টা করেছি। বাঁধ নির্মাণ, নদীর গতিপথ পরিবর্তন কিংবা অপরিকল্পিত অবকাঠামো তৈরির মাধ্যমে নদীকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। এর ফলে নদীর স্বাভাবিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্রগুলো ধ্বংস হয়েছে, নদীর নাব্যতা কমেছে এবং অনেক দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির পথে চলে গেছে।
ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, শুধু নদীকে শাসন করলেই হবে না, মাছের চাহিদা পূরণে নদীকে লালন করতে হবে। নদীকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দেওয়া, নদীর যত্ন নেওয়া, দূষণমুক্ত রাখা এবং মাছের প্রাকৃতিক অভয়ারণ্যগুলো সংরক্ষণ করা জরুরি। মাছ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার পরিবেশ পেলে আমাদের নদীগুলো আবারও মাছে মাছে ভরে উঠবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের নদী ও সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ রক্ষায় গবেষণার মাধ্যমে নতুন নতুন প্রযুক্তি এবং টেকসই মৎস্য চাষের মডেল উদ্ভাবন করা হয়েছে। এসব প্রযুক্তি ও মডেল সরাসরি জেলে ও মৎস্যচাষীদের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
আলোচনা সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীলকমল লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন প্রধান অতিথি ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহানসহ বিশেষ অতিথিরা।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।