আব্দুল হামিদ মিঞা:

 

ছাত্রী নিপীড়নের অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগের আট দিন পর অবশেষে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব পেয়েছেন। এতদিন প্রধান শিক্ষক ও অভিভাবকবিহীন অবস্থায় ছিল প্রতিষ্ঠানটি।

 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিদ্যালয় কার্যালয়ে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক সাইফুল ইসলামের কাছে লিখিতভাবে দায়িত্বভার অর্পণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু জাফর, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি গড়গড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এমদাদুল হক এবং বাউসা ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের সুপারিনটেনডেন্ট রেজাউল করিম।

 

জানা যায়, গত রোববার (৯ আগস্ট) দশম শ্রেণির এক ছাত্রী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাওলানা আব্দুস সামাদের বিরুদ্ধে অনৈতিক প্রস্তাব ও গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ তোলে। এরপর শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে বহিরাগতরাও এতে যোগ দেয়।

 

বিষয়টি রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদকে জানানো হলে তিনি বিদ্যালয়ে গিয়ে ওই ছাত্রীর বক্তব্য শোনেন। ছাত্রী উমারি প্রান্ত সরকার অভিযোগ করে, গত ৩০ জুন সুযোগ বুঝে প্রধান শিক্ষক তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হওয়ায় তার এক হাত ধরে টানাটানি করা হয় বলে অভিযোগ করে সে। বিষয়টি সহপাঠী ও কয়েকজন শিক্ষককে জানানো হয় বলেও ওই ছাত্রী দাবি করে।

 

এ ঘটনায় বিষয়টি আড়াল করার অভিযোগে সহকারী শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিনকে সাময়িক বরখাস্তের মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

 

পরে ওইদিন দুপুরে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির কাছে লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দেন আব্দুস সামাদ। বিকেলে বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে পুলিশ ভ্যানে ওঠার সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাকে লক্ষ্য করে ডিম ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।

 

দায়িত্ব নিয়ে জটিলতা

আব্দুস সামাদের পদত্যাগের পর জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ার কথা থাকলেও আট দিন ধরে তা কার্যকর হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে আরও দুই শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী ছিলেন।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে সরাতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে কেউ কেউ ইন্ধন দিয়েছেন।

 

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, অবসরে যাওয়ার সময় তৎকালীন প্রধান শিক্ষক আবু মনোয়ার হোসেন জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা আব্দুস সামাদকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেন। আবু মনোয়ার হোসেন ও আব্দুস সামাদ দুজনই জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত। তবে তারা বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক পদে নেই।

 

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য

অভিযোগ অস্বীকার করে পদত্যাগী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ বলেন, ‘আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। চাপের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছি। আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা।’ তিনি জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে প্রায় দুই বছর আট মাস দায়িত্ব পালনের পর তিনি পদত্যাগ করেছেন।

 

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ওই ছাত্রী লিখিত কোনো অভিযোগ করেনি। বিদ্যালয়ের স্বার্থে বিষয়টি তদন্ত করা হবে।’ সহকারী শিক্ষিকাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। স্থানীয় জটিলতার কারণে নতুন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগে বিলম্ব হয়েছে বলে জানান সভাপতি।

 

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু জাফর বলেন, ‘শূন্য পদে দায়িত্ব দেওয়াসহ সহকারী শিক্ষকের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব ম্যানেজিং কমিটির। পরে একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’