ইসমাইল হোসেন বাবুঃ

 

মা-বাবা ও সাড়ে তিন বছরের ছোট ভাই; সবাই চলে গেছে না ফেরার দেশে। বেঁচে আছে শুধু ৬ বছরের মহিমা। বুধবার (১৯ আগস্ট) ভারতের কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমিন মনীষা, ছেলে স্বর্নশীষ দত্ত ও শ্বশুর আকরাম হোসেন নিহত হয়েছেন।

 

গত ৩ আগস্ট স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য ভারতের বেঙ্গালুরু যান দেবাশীষ, তার স্ত্রী, শ্বশুর ও ছেলে। সেখানে চিকিৎসা শেষে মঙ্গলবার কলকাতায় ফিরে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে উঠেন।

 

পারিবারিক সূত্র জানায়, কলকাতায় পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনাকাটাও করেছিলেন দেবাশীষ। গত রাতে কুষ্টিয়ার বাড়িতে থাকা বাবা-মায়ের সঙ্গে শেষবার কথা হয় তার। সে সময় জানান, বুধবার সকালে ফ্লাইটে তাদের দেশে ফেরার কথা। কিন্তু ভোররাতে হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে সব শেষ হয়ে যায়।

 

বুধবার বিকেলে কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ায় দেবাশীষের ভাড়া বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাবা-মা ও ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদে নির্বাক হয়ে বসে আছে ছয় বছরের মেয়ে মহিমা। কেবল অস্ফুট স্বরে বলছে, “আমার বাবা মারা গেছে।”

 

সন্তান হারানোর শোকে আহাজারি করছেন দেবাশীষের মা স্বপ্না দত্ত। পরিবারের সদস্য, স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে বাড়ির পরিবেশ।

 

দেবাশীষ দত্ত আজকের পত্রিকা ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি আজকের আলো নামের একটি স্থানীয় পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। তার মৃত্যুতে শোকাহত সহকর্মী, স্বজন ও কুষ্টিয়ার সাংবাদিক সমাজ। পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীরা কিছুতেই এ মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না।

 

দেবাশীষের সতীর্থ সাংবাদিক জাহিদুল আলম জয় শিশু মহিমার দায়িত্ব গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “কুষ্টিয়ার সাংবাদিক ভাইদের কাছে বিনীত আবেদন, আসুন আমরা সবাই দেবাশীষ দত্তের এতিম শিশুকন্যা মহিমা দত্তের সারা জীবনের দায়িত্ব নিই।”