মোঃ আমজাদ আলী:
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার ১৫ জন বেকার যুবককে চার সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণ শেষে সনদপত্র ও প্রয়োজনীয় ইলেকট্রিক টুলস দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় ফুলবাড়ী উপজেলার এলুয়াড়ী ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে প্রশিক্ষণ সনদপত্র ও ইলেকট্রিক টুলস তুলে দেওয়া হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবি দিনাজপুর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. ফয়সল হাসান খান।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফ-উজ-জামান, দিনাজপুরের পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা, ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাসান এবং ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার সহকারী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ফুলবাড়ী ২৯ বিজিবির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় জলপাইতলী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার এলুয়াড়ী ইউনিয়ন পরিষদের যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সীমান্তবর্তী এলাকার ১৫ জন বেকার যুবককে নিয়ে চার সপ্তাহব্যাপী ‘বেসিক ইলেকট্রিক্যাল হাউজ ওয়্যারিং প্রশিক্ষণ’ কার্যক্রম শুরু করা হয়।
প্রশিক্ষণ শেষে মঙ্গলবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী যুবকদের সনদপত্রের পাশাপাশি কর্মসংস্থানে সহায়ক প্রয়োজনীয় ইলেকট্রিক টুলস দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কর্নেল মো. ফয়সল হাসান খান বলেন, ‘বিজিবি হবে সীমান্তের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক’—মহাপরিচালকের এ ঘোষণা বাস্তবায়নে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বদ্ধপরিকর। বিজিবির প্রতিটি সদস্য সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চোরাচালান, মাদক, মানবপাচার ও অস্ত্রপাচারসহ সব ধরনের আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের নিরাপত্তা, জীবনমান উন্নয়ন ও সামাজিক কল্যাণে বিজিবি মানবিক ভূমিকা পালন করে আসছে। নিয়মিতভাবে ত্রাণ বিতরণ, দুর্যোগকালীন উদ্ধার ও খাদ্য সহায়তা, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ, শিক্ষা উপকরণ প্রদানসহ বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকার যুবসমাজকে দক্ষ ও কর্মক্ষম করে গড়ে তুলতে বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং সীমান্ত এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করেন বিজিবি কর্মকর্তারা।