মোহাম্মদ আবু নাছের:
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) হলের সিট পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের দাবি, ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বহিরাগতদের সংঘর্ষের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল মালেক উকিল হল ও পকেট গেট এলাকায় দফায় দফায় এ সংঘর্ষ হয়।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন শাখা ছাত্রদলের ছাত্রকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ও পরিসংখ্যান বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আনিসুর রহমান সিফাত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও ফলিত গণিত বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম হাসান এবং ছাত্রদলের আপ্যায়নবিষয়ক সম্পাদক আরিফ হাসান। আহতদের মধ্যে একজনকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে আব্দুল মালেক উকিল হলের একটি কক্ষের সিট পরিবর্তন নিয়ে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সিনিয়র-জুনিয়র কর্মীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেনের অনুসারীদের সঙ্গে সিনিয়র সহসভাপতি সাব্বির হোসেন শান্তর অনুসারীদের বিরোধের জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় হলের বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে এক পক্ষ অপর পক্ষকে ধাওয়া দিলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া অডিটোরিয়াম থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও মারামারি হয়।
ছাত্রদলের একাধিক নেতা দাবি করেন, এক পক্ষ বহিরাগতদের নিয়ে এসে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। তাদের দাবি, ব্যক্তিগত বিরোধের জেরেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
এ ঘটনায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত দুই সাংবাদিকও হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরিচালক (তথ্য ও জনসংযোগ) ইফতেখার হোসাইন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দিনকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান এবং সদস্যসচিব হিসেবে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ এফ এম আরিফুর রহমান। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, ঘটনায় যে বা যারা জড়িত থাকুক, তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।