শামীম আহমেদঃ
দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের অবহেলা, অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও আইনি জটিলতা দূর করে পুরো খাতকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেল ৫টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে “ঢাকাস্থ রাজবাড়ী জেলার শিল্পী ও সাংস্কৃতিককর্মীদের” সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংস্কৃতি শুধু সংগীত, নৃত্য বা নাটকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি জাতির সামগ্রিক জীবনধারা। মানুষের পোশাক, খাবার, পিঠাপুলি, চলাফেরা, ভাষা ও ঐতিহ্য-সবই সংস্কৃতির অংশ। তাই একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের সুনির্দিষ্ট সংস্কৃতি নীতি থাকা প্রয়োজন। প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ আইন-কানুন সংস্কারের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং নতুন আইন প্রণয়ন ও সংশোধনের কাজ চলমান রয়েছে।
তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় জরাজীর্ণ শিল্পকলা একাডেমি ও সাংস্কৃতিক স্থাপনাগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে। প্রায় ২০টি জেলায় আধুনিক সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে আধুনিক হল, সিনিপ্লেক্স, ফুড কোর্ট ও খেলার মাঠ থাকবে। পাশাপাশি ২৫০টি উপজেলায় নতুন শিল্পকলা একাডেমি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাজবাড়ীর জন্যও রয়েছে বিশেষ পরিকল্পনা। রাজবাড়ীতে আধুনিক শিল্পকলা একাডেমি ভবন নির্মাণে প্রায় ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং পাংশায় নতুন শিল্পকলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। গোয়ালন্দের পদ্মার চরে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘কালচারাল হাব’, রাজবাড়ী শহরের রেলের মাঠে স্টেডিয়াম এবং হোসেন মহল এলাকায় কালচারাল কমপ্লেক্স ও জাদুঘর নির্মাণের প্রস্তাবও প্রক্রিয়াধীন।
এছাড়া পূর্বাচলের ১৬০ একর জমিতে বৃহৎ ‘কালচারাল হাব’ নির্মাণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে আগামী ২৯ আগস্ট ‘নজরুল বর্ষ’ উদ্বোধনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আইন সংস্কার, আধুনিক অবকাঠামো ও সমন্বিত সাংস্কৃতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক খাত একটি শক্তিশালী ও টেকসই ভিত্তি লাভ করবে।