জসীমউদ্দিন ইতি:

 

ঠাকুরগাঁওয়ে সার্ভিসিং সেন্টারের নিরাপত্তা প্রহরী আব্দুর রহমান (৫৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। জানালার থাই গ্লাস ভাঙার ক্ষতিপূরণের টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের সাবেক সহকর্মী জুয়েলকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) খোদাদাদ হোসেন।

 

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়ক সংলগ্ন একটি সার্ভিসিং সেন্টারের সীমানাপ্রাচীরের ভেতর থেকে আব্দুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

ঘটনার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়ালপাড়া এলাকায় নিজ নানার বাড়ি থেকে জুয়েলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জুয়েল হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ব্যবহৃত বাইসাইকেল, মোবাইল ফোন ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি কাঠের লাঠি উদ্ধার করা হয়েছে।

 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদাদ হোসেন জানান, জুয়েল আগে ওই সার্ভিসিং সেন্টারে কর্মরত ছিলেন। চাকরির সময় একটি জানালার থাই গ্লাস ভাঙাকে কেন্দ্র করে ক্ষতিপূরণের টাকা নিয়ে আব্দুর রহমানের সঙ্গে তার তীব্র বাকবিতণ্ডা ও বিরোধ সৃষ্টি হয়। ওই বিরোধের জের ধরেই সুযোগ বুঝে আব্দুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

 

এ ঘটনায় নিহত আব্দুর রহমানের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার জুয়েলকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।