জসীমউদ্দিন ইতি:

 

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬’-এর আওতায় খানা তথ্যভাণ্ডার (Household Database) তৈরির লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহকারী (গণনাকারী) ও সুপারভাইজার পদে বাছাই ও চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করায় প্রশংসিত হচ্ছেন উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চন্দন কর।

 

সম্প্রতি প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি ও ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, আবেদনকারীদের মেধা ও যোগ্যতা এবং সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করেই চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব ছাড়াই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

 

ইউএনও চন্দন কর ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (অঃ দাঃ) মো. আব্দুর রহিম স্বাক্ষরিত চূড়ান্ত তালিকায় নির্বাচিত গণনাকারী, সুপারভাইজার ও অপেক্ষমাণ (রিজার্ভ) তালিকাভুক্তদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়োগ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৯ দফা শর্ত ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

প্রশাসনের এ উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

 

হরিপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি মামুনুর রশিদ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড শুমারির মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রভাব ছাড়া মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা অত্যন্ত ইতিবাচক। ইউএনও চন্দন করের এই স্বচ্ছ ও পেশাদার পদক্ষেপ প্রশাসনিক সততা ও সুশাসনের দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।”

 

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের বলেন, “প্রশাসনের দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষ থেকে প্রতিটি সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখা। হরিপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির কর্মী নিয়োগে ইউএনও চন্দন কর যে সততা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন, তা প্রশংসার দাবি রাখে।”

 

স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবর রহমান বলেন, “স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মেধার ভিত্তিতে কর্মী নিয়োগ দেওয়ায় যোগ্য প্রার্থীরা কাজের সুযোগ পেয়েছেন। এটি শুমারি কার্যক্রমকে আরও নির্ভুল করতে ভূমিকা রাখবে।”

 

বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে এসব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের সময় তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা, দৈনিক আট ঘণ্টা দায়িত্ব পালন এবং নির্ধারিত ডিভাইস সঠিকভাবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জরিপকালে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন, অনিয়ম কিংবা অনৈতিক সুবিধা দাবির অভিযোগ প্রমাণিত হলে নিয়োগ বাতিলসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

 

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চূড়ান্তভাবে মনোনীত প্রার্থীদের শিগগির প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এরপর তাদের মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত করা হবে।