মোঃ আকাশ উজ্জামান শেখ:

 

বাগেরহাটের রামপালে শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ ও বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া (ড্রপআউট) মুক্ত উপজেলা গঠনের লক্ষ্যে সাংবাদিকদের সঙ্গে অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা ও অঙ্গীকারনামা স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ রামপাল এরিয়া কো-অর্ডিনেশনের আয়োজনে উপজেলা মডেল মসজিদ মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তামান্না ফেরদৌসি। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শাহিনুর রহমান। সভায় সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ রামপাল এরিয়া কো-অর্ডিনেশনের সিনিয়র ম্যানেজার ফুলি সরকার।

 

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার নাথন চৌকিদার, প্রোগ্রাম অফিসার সুবাস জয়ধর, পার্থ সারথি দোবে ও ইশিতা বৈরাগীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

সভায় রামপাল প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত ছিলেন রামপাল প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক মো. শাহাজালাল গাজী, সদস্য সচিব মো. আরিফ গজনবী, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাগর আহমেদ এবং সদস্য জিল্লু রহমান, মো. আবদুল্লাহ, রবিউল ইসলাম, মাসুম বিল্লাহ, মো. আকাশ উজ্জামান শেখ, রাকিবুল ইসলাম সুমন, ইমরান হোসেন শান্তসহ অনেকে।

 

সভায় শিশুদের অধিকার সুরক্ষা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, শিশুশ্রম নির্মূল এবং বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া রোধে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচির অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। এ সময় এসব বিষয়ে প্রশাসন, গণমাধ্যম ও সামাজিক সংগঠনের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

 

অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সাংবাদিকরা শিশু সুরক্ষায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার লক্ষ্যে একটি ‘ব্যক্তিগত অঙ্গীকারনামা’-তে স্বাক্ষর করেন।

 

অঙ্গীকারনামায় সাংবাদিকরা কোনো শিশুকে যেন শিশুশ্রমের শিকার হতে না হয় এবং তাদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রচার-প্রচারণা চালানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে গণমাধ্যমে সচেতনতামূলক সংবাদ প্রকাশ, তথ্য পেলে প্রশাসনকে সহযোগিতা এবং বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিশুদের পুনরায় শিক্ষার আওতায় ফিরিয়ে আনতে জনসচেতনতা তৈরির অঙ্গীকার করেন।

 

এ ছাড়া সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে শিশুদের সুরক্ষা, মর্যাদা ও গোপনীয়তা বজায় রেখে ইতিবাচক পরিবর্তনে গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সাংবাদিকরা।

 

সাংবাদিকরা বলেন, “কোনো শিশু শিশুশ্রমে নয়, কোনো শিশুর বাল্যবিবাহ নয় এবং কোনো শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে নয়—শিশুর অধিকার ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে আমরা আমাদের কলম, কণ্ঠ ও গণমাধ্যমের শক্তিকে দায়িত্বশীলভাবে কাজে লাগাব।”