রাশিদুল ইসলাম রাশেদ:
‘শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানোর প্রয়োজন হবে না—এমন শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।’ শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে আরও দায়িত্বশীল ও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এ কথা বলেছেন নাটোর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুল।
তিনি বলেন, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য শ্রেণিকক্ষেই অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষার্থীদের সম্পদে পরিণত করার দায়িত্ব শিক্ষকদের। কোনো শিক্ষক প্রাইভেট পড়ালে তার এমপিও বন্ধ করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সরকারি বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।
রোববার (৯ আগস্ট) নাটোরের লালপুর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। এদিন তিনি উপজেলার পৌর এলাকা এবং লালপুর, বিলমাড়িয়া ও দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও পরিদর্শন করেন।
পরে মোহরকয়া ডিগ্রি পাস ও অনার্স কলেজ, গোপালপুর উচ্চ বিদ্যালয়, ভেল্লাবাড়িয়া বাগুদেওয়ান আলিম মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন ফারজানা শারমীন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের আন্তরিক হতে হবে এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে পড়াতে হবে। কোনো শিক্ষার্থী যেন প্রাইভেট পড়তে বাধ্য না হয়, সে ব্যবস্থা করতে হবে। বিশেষ করে দুর্বল শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়ে তাদের জন্য অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কোনো স্কুলের শিক্ষক প্রাইভেট পড়ালে তাঁর এমপিও বন্ধ করে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ওই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নেও কোনো বরাদ্দ দেওয়া হবে না। স্কুল-কলেজ এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করলে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে, সেখানে কোনো শিক্ষার্থীর প্রাইভেট পড়ার প্রয়োজন হয় না।
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে পরিকল্পিতভাবে শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। তাদের ওপর পড়াশোনার অতিরিক্ত চাপ দিয়ে জিপিএ-৫ পাওয়ার প্রতিযোগিতায় নামানো হয়েছে। এতে অনেক শিক্ষার্থী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে।
ফারজানা শারমীন বলেন, “আমরা এমন শিক্ষা ব্যবস্থা চাই না। আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা আনন্দমুখর পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করবে। পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটবে।”
শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রমের বাইরের কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও খেলাধুলার চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মানসিক উৎকর্ষ ঘটাতে হবে। এ লক্ষ্যে ‘নতুন কুঁড়ি’র পাশাপাশি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ প্রতিযোগিতাও সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সৃজনশীল কর্মকাণ্ড ও খেলাধুলার মধ্য দিয়ে মেধাবী ও বুদ্ধিদীপ্ত প্রজন্ম গড়ে উঠবে।
উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তাঁর বিশেষ উন্নয়ন সহায়তা থোক বরাদ্দ থেকে লালপুরে ১৭৯টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রকল্পগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে উপজেলার কোনো এলাকা অনুন্নত থাকবে না। অন্যায় বা অনিয়মের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তাকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, বসন্ত বিলের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে। দীর্ঘদিন যেসব এলাকায় উন্নয়ন হয়নি, সেসব এলাকাতেও কাজ করা হচ্ছে। শতবর্ষী স্কুল-কলেজগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে জাতীয়করণ করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য স্কুল-কলেজ জাতীয়করণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মতবিনিময় সভায় লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ পাপ্পু, সাবেক পৌর মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম মোলাম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিলমাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ছিদ্দিক আলী মিষ্টুসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।