মোক্তার হোসেনঃ

 

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর শনিবার (৮ আগস্ট) রাজবাড়ীর পাংশায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করে বক্তব্য রাখেন।

 

জানা যায়, শনিবার পাংশা উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এডিপির বিশেষ বরাদ্দের আওতায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নানা ধরণের সামগ্রী বিতরণ, উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভা, পাংশা উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে পাংশা উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং সকল অঙ্গ সংগঠন আয়োজিত স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের মতবিনিময় সভা এবং কলিমহর ইউপির গোপালপুর বাজারে পাংশা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজিত মিনি কোল্ড স্টোরেজ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। পর্যায়ক্রমে এসব কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তিনি।

 

পাংশা উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এডিপির বিশেষ বরাদ্দের আওতায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নানা ধরণের সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। ৩টি ক্যালেন্ডার করতে হবে। তা হলো- বার্ষিক শিক্ষা কর্মসূচি, বার্ষিক ক্রীড়া কর্মসূচি ও বার্ষিক সাংস্কৃতিক কর্মসূচি।

 

তিনি বলেন, গ্রেড দিয়ে শিক্ষকের মান নির্ণয় করা যায় না। নৈতিকতায় শিক্ষকের মার্যাদা বৃদ্ধি পায়।
ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আরও বলেন, মানুষকে মুক্ত করতে হবে। মানুষকে স্বাধীন করতে হবে। মানুষকে অধিকারের অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে হবে। মানুষকে নিজের পায়ে সম্মানসহ দাঁড়তে হবে। এই কাজটা একটা শিক্ষাই পারে।

 

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন সবার আগে বাংলাদেশ। অর্থাৎ সকল মানুষকে নিয়ে বাংলাদেশ গড়তে হবে। দক্ষ জনশক্তি গড়তে হবে। সুস্বাস্থের জনশক্তি গড়তে হবে। সবার জন্য বাংলাদেশ গড়তে হবে। সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ করতে হবে। নারীর অংশগ্রহণ করতে হবে। সকল অঞ্চলের মানুষকে অংশগ্রহণ করতে হবে। কোনো অঞ্চল যাতে অবহেলিত না থাকে। সমতাভিত্তিক সমাজ গড়তে হবে।

 

প্রধান অতিথি আরও বলেন, শিক্ষার অগ্রযাত্রায় কাজ করতে হবে। আমরা নকলমুক্ত শিক্ষা দেখতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যেকটি কর্মসূচি রাজবাড়ীতে পালিত হচ্ছে। কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মোয়াজ্জিন, পুরহিত-সেবায়েতকে সম্মানী প্রদান করা হচ্ছে।

 

ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, অপসংস্কৃতি, কুপমন্ডুকতা ও উগ্র মৌলবাদীকে সমাজ থেকে বিতাড়িত করতে শিক্ষকদের বড় রকমের ভূমিকা আছে। অগ্রযাত্রার পথ তৈরী করছেন শিক্ষকরা।

 

রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আফরোজা পারভীনের সভাপতিত্বে এবং পাংশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রিফাতুল হকের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে রাজবাড়ী-২ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মো. হারুন অর রশিদ ও রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, বিপিএম- সেবা বক্তব্য রাখেন।

 

স্থানীয়দের মধ্যে জয়কৃষ্ণপুর মহিলা ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. ইয়াসির আরাফাত, পাংশা পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সান্তনা দাস ও পাট্টা জোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খায়রুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। তারা পাংশার শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

 

রাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. তারিক-উল-হাসান, পাংশার এসিল্যান্ড সাদ আহম্মেদ, পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলামসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ ও সাংবাদিকবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।