রাশিদুল ইসলাম রাশেদ:

 

নাটোরের লালপুরে স্বামী-স্ত্রীসহ তিন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে আড়াই কেজি শুকনা গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি গাঁজা পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ও মাদক বিক্রির যোগাযোগে ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

 

গ্রেপ্তার তিনজন হলেন—গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার ইসবপুর গ্রামের আ. লতিফের ছেলে মো. আহসান হাবীব (৪৫), তাঁর স্ত্রী মোছা. আরফিনা বেগম (৩৪) এবং লালপুর উপজেলার বালিতিতা ইসলামপুর গ্রামের জুলমত শেখের ছেলে মো. রাজিব শেখ (৩৫)।

 

শনিবার (৮ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ এসব তথ্য জানান।

 

পুলিশ জানায়, শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার গোপালপুর বেলগেটসংলগ্ন হযরত শাহ সুফী বোরহান উদ্দিন বাগদাদী (রহ.) ওরফে বুড়া পীর সাহেবের মাজার জামে মসজিদ ও দারুস সুন্নাহ হাফিজিয়া মাদ্রাসার সামনে পাকা সড়কে পুলিশের চেকপোস্টে তাদের আটক করা হয়।

 

লালপুর থানার এসআই মো. আল মাসুমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল রাত্রীকালীন ডিউটির সময় চেকপোস্ট পরিচালনা করছিল। এ সময় বনপাড়ার দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলে চালক আহসান হাবীব ও পেছনে থাকা আরফিনা বেগমকে থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। পরে মোটরসাইকেলের সিটের ওপর থাকা নেভি ব্লু রঙের একটি লেডিস ব্যাগ থেকে পলিথিন ও স্বচ্ছ টেপে মোড়ানো পাঁচটি পোটলায় আড়াই কেজি শুকনা গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

 

ওসি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আহসান হাবীব ও আরফিনা বেগমের সঙ্গে লালপুরের রাজিব শেখের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়। পরে অভিযান চালিয়ে উপজেলার মনিহারপুর গ্রামে রাজিব শেখের শ্বশুর মো. মহিবুল ইসলামের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

এ ঘটনায় এসআই মো. আল মাসুম বাদী হয়ে গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণি-১৯(ক)/৩৮/৪১ ধারায় মামলা করেছেন। শনিবার তাদের আদালতের মাধ্যমে নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তার আহসান হাবীবের বিরুদ্ধে এর আগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, দণ্ডবিধির ৩৯৫/৩৯৭ ধারা এবং অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থানায় ২০২৩ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা, চিলমারী থানায় ২০২৫ সালের দণ্ডবিধির ৩৯৫/৩৯৭ ধারায় একটি মামলা এবং বগুড়ার শিবগঞ্জ থানায় একই বছরে অস্ত্র আইনে একটি মামলা রয়েছে। এছাড়া গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর-সংক্রান্ত আদালতের নথিতে তাঁর বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

অন্যদিকে, রাজিব শেখের বিরুদ্ধে কুড়িগ্রাম থানায় ২০২৫ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১৯(ক) ধারায় একটি মামলা রয়েছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।