মো. গোলাম রাব্বী:
রংপুরের গঙ্গাচড়া বাজারে যানজট নিরসনের লক্ষ্যে অটোরিকশা স্ট্যান্ড নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, স্ট্যান্ড নির্মাণের নামে চারটি সাইনবোর্ড বসানো হলেও সেখানে অটোরিকশা রাখার মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই। প্রায় ১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্প বাস্তবে যানজট নিরসনে কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় ‘গঙ্গাচড়া বাজার জিরো পয়েন্টে যানজট নিরসনে অটোরিকশা স্ট্যান্ড নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৭৮ টাকা। বিল-ভাউচার অনুযায়ী, প্রকল্পের আওতায় চারটি সাইনবোর্ড স্থাপন এবং একটি স্থানে ১০ মিটার ইটের সলিংয়ের কাজ দেখানো হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নির্ধারিত স্থানে চারটি সাইনবোর্ড বসানো হয়েছে। সাইনবোর্ডগুলোর সামনে ব্যবহৃত জুতা-স্যান্ডেল ও বিভিন্ন ধরনের আবর্জনার স্তূপ পড়ে রয়েছে। একটি সাইনবোর্ডের পাশে অল্প পরিমাণ ইটের কাজও দেখা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্ট্যান্ডে অটোরিকশা রাখার মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই এবং এটি কখনোই কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হয়নি। বর্তমানে জিরো পয়েন্ট ও আশপাশের সড়কে অটোরিকশা যাত্রী ওঠানামা করায় আগের মতোই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সামসুল হক বলেন, সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও দৃশ্যমান উন্নয়ন খুবই সীমিত। চারটি সাইনবোর্ড ও সামান্য ইটের কাজ ছাড়া তেমন কোনো অবকাঠামো নেই। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল যানজট কমানো, কিন্তু সেটি বাস্তবায়িত হয়নি।
স্থানীয় যুবক আহাদ মিয়া বলেন, সরকারি অর্থ ব্যয় করে দায়সারাভাবে কাজ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত সাধারণ মানুষ এ প্রকল্পের কোনো সুফল পায়নি।
অটোরিকশাচালক আসিকুল মিয়া বলেন, স্ট্যান্ড ব্যবহারের বিষয়ে চালকদের সঙ্গে প্রশাসনের কার্যকর সমন্বয় হয়নি। নির্দিষ্ট নিয়ম করে সবাইকে স্ট্যান্ড ব্যবহারে বাধ্য করা হলে যানজট কমানো সম্ভব।
বাংলাদেশ লেবার পার্টির রংপুর মহানগর শাখার সভাপতি মুহাম্মদ শামসুদ্দিন রাজা বলেন, “চারটি সাইনবোর্ডে যদি প্রায় ১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়, তাহলে বিষয়টি অবশ্যই তদন্ত করা প্রয়োজন। ব্যয় হয়েছে, কিন্তু প্রকল্পের বাস্তব সুফল কোথায়—সেটি খতিয়ে দেখা উচিত।”
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রকৌশলী জয়া স্যানাল বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।”
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, “আরও কয়েকটি ছোট সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে। কাজ বুঝে পাওয়ার পরই বিল পরিশোধ করা হবে।”
উল্লেখ্য, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপির আওতায় নেওয়া এ প্রকল্পের কিছু কাজ অর্থবছর শেষ হওয়ার পরও অসম্পূর্ণ রয়েছে বলে সরেজমিনে দেখা গেছে। একই সঙ্গে স্ট্যান্ডটি কার্যকরভাবে ব্যবহার না হওয়ায় যানজট নিরসনে প্রকল্পটির বাস্তব সুফল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। প্রকল্পের ব্যয়, কাজের মান ও বাস্তবায়ন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।