ইসমাইল হোসেন বাবু:
উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে আড়াই বছর আগে রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন কুষ্টিয়ার মেধাবী শিক্ষার্থী খালেকুজ্জামান অনিক (২৭)। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন থেকে নিচে পড়ে মৃত্যুর পর দীর্ঘ ১ মাস ১২ দিন পর কফিনবন্দি হয়ে নিজ গ্রামে ফিরলেন তিনি।
রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে অনিকের মরদেহ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আইলচারা ইউনিয়নের সওড়াতলা গ্রামে পৌঁছালে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর আহাজারিতে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
নিহত অনিক কৃষক মানোয়ার বিশ্বাসের ছেলে। তিনি রাশিয়ার সাউথ ইউরাল স্টেট ইউনিভার্সিটি, চেলিয়াবিনস্কে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২১ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচতলা ভবন থেকে নিচে পড়ে অনিকের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর মরদেহ দেশে আনতে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে সময় লাগায় প্রায় দেড় মাস পর তার মরদেহ দেশে পৌঁছে।
রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর শেষবারের মতো তাকে দেখতে ভিড় করেন এলাকাবাসী। বাদ জোহর সওড়াতলা জামে মসজিদে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
নিহতের চাচা মুফতি আলী হোসেন ফারুকী জানান, অনিক ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের ছিলেন। কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে বৃত্তি নিয়ে প্রায় আড়াই বছর আগে রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য যান। তার মা আগে থেকেই মারা গেছেন। পরিবারে বাবা ও বড় ভাই রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, “২১ জুন খবর পাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচতলা ভবন থেকে পড়ে অনিক মারা গেছে। কীভাবে এই ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো আমাদের স্পষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি।”
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হারুন অর রশিদ বলেন, “বিষয়টি আমি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছি। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় বা পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো আমাকে কেউ অবহিত করেনি। আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি এবং নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করব।”