বাদশাহ মিয়া:

 

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ২১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর দাবি, লিবিয়া হয়ে ইতালি পাঠানোর আশ্বাসে তার কাছ থেকে পর্যায়ক্রমে ২১ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে সমুদ্রপথে ইতালি যাওয়ার সময় লিবিয়ার কোস্টগার্ডের অভিযানে নৌযানে হামলার ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন। দেশে ফিরে টাকা ফেরত চাইলে উল্টো তাকে ও তার পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

 

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী উপজেলার পশ্চিম নওখন্ডা গ্রামের মো. হাবিবুল্লাহ (সোহেল মোল্লা) বাদী হয়ে মুকসুদপুর সিন্দিয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের মো. ইয়াকুব আলী শেখ, তার ইতালিপ্রবাসী ছেলে তাইজুদ্দিন শেখ, মোনজোরা বেগম, মো. গিয়াস উদ্দিন শেখ, মো. জসিম উদ্দিন শেখ ও মোছা. খাদিজা আক্তার নিরাপদে লিবিয়া হয়ে ইতালি পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তাদের কথায় বিশ্বাস করে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে ব্যাংক হিসাব এবং নগদে পর্যায়ক্রমে মোট ২১ লাখ টাকা পরিশোধ করেন তিনি।

 

ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তিনি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে লিবিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। দীর্ঘদিন সেখানে থাকার পর ১৫ নভেম্বর তাকে সমুদ্রপথে ইতালির উদ্দেশ্যে একটি নৌযানে তোলা হয়। কিন্তু কিছু দূর যাওয়ার পর লিবিয়ার কোস্টগার্ড নৌযানটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে নৌযানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এবং বহু যাত্রী নিহত ও আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রাণে বেঁচে দেশে ফিরে চিকিৎসা নেন। সুস্থ হওয়ার পর অভিযুক্তদের কাছে টাকা ফেরত চাইলে তারা তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। বরং চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে হয়রানি করা, পুলিশ দিয়ে তুলে নেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী।

 

মো. হাবিবুল্লাহ জানান, বিদেশে যাওয়ার খরচ জোগাতে তার বাবা পুলিশের চাকরির পেনশনের টাকা ব্যয় করেন, ঋণ নেন এবং পরিবারের শেষ সম্বল ৩৭ শতাংশ জমি বিক্রি করেন। ফলে টাকা হারিয়ে পরিবারটি এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আত্মসাৎ হওয়া অর্থ উদ্ধার করে ফেরত দেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইয়াকুব আলী শেখ বলেন, “আমার আত্মীয়ের মাধ্যমে এরা ইতালিতে যেতে চেয়েছিল। দুর্ঘটনায় আমাদের এলাকার কয়েকজন লিবিয়া থেকে ফেরত এসেছে। কয়েকজনকে কিছু কিছু টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে হাবিবুল্লাহকে টাকা দেওয়া হয়নি। আমি তাকে আমার সঙ্গে আত্মীয়ের বাড়িতে যেতে বললেও সে যায়নি।”

 

মুকসুদপুর সিন্দিয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আওরঙ্গজেব বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”