আলিফ হোসেন:
রাজশাহীর তানোরে আলোচিত জুয়াড়ি আব্দুল মতিনের জুয়া খেলা দেখে ফেলায় এক স্কুলশিক্ষার্থীকে পরিত্যক্ত ঘরে আটকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। আহত শিক্ষার্থীর নাম জুবায়ের হোসেন। তিনি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি তানোর উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (২৫ জুলাই) উপজেলার কলমা ইউনিয়নের চন্দনকোঠা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীর পিতা মুকসেদ বাদী হয়ে একই গ্রামের আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে তানোর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার আব্দুল মতিন মোবাইল ফোনে জুয়া খেলছিলেন। ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় জুবায়ের বিষয়টি দেখে ফেলেন। অভিযোগ রয়েছে, পরে মতিন জুবায়েরকে জোরপূর্বক একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে বাঁশের লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। তার চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে তানোর উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন।
আহত জুবায়ের হোসেন বলেন, “জুয়া খেলা দেখে ফেলায় আমাকে আটকে রেখে মারধর করা হয়েছে। আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।”
জুবায়েরের পিতা মুকসেদ বলেন, “আমার ছেলের একমাত্র ‘অপরাধ’ ছিল, সে জুয়া খেলার ঘটনা দেখে ফেলেছিল। এ কারণে তাকে অমানবিকভাবে মারধর করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, অভিযুক্ত আব্দুল মতিন দীর্ঘদিন ধরে মোবাইলে জুয়া খেলার সঙ্গে জড়িত। তিনি পেশাদার জুয়াড়ি এবং এলাকার অনেক যুবক ও কিশোরকে প্রলোভন দেখিয়ে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস. এম. মাসুদ পারভেজ বলেন, “ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার সকালে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”