জসীমউদ্দিন ইতিঃ

 

সীমান্তে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা বিধানের পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রেখে চলেছে ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি)। বিজিবির ধারাবাহিক সফল অভিযান ও কৌশলগত দূরদর্শিতার ফলে সীমান্তে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাওয়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ এবং জনপ্রতিনিধিদের মাঝে ব্যাপক স্বস্তি ও প্রশংসা কুড়াচ্ছে ৫০ বিজিবির সদস্যরা।

 

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তি ও নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভর করে গত ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যায় ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি)-এর অধীনস্থ কাঠালডাংগী বিওপির একটি চৌকস আভিযানিক দল সীমান্তে অভিযান পরিচালনা করে। বিওপি কমান্ডার সুবেদার মোঃ মহসিন আলীর নেতৃত্বে সন্ধ্যা আনুমানিক ৭:২৫ ঘটিকায় হরিপুর থানার সীমান্তবর্তী ‘বেলডাংগী নতুন বাজার’ এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

 

অভিযানকালে সীমান্ত পিলার ৩৭১/২-এস থেকে আনুমানিক ৮০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে তল্লাশি করা হয়। পরবর্তীতে তাদের হেফাজত থেকে ১০ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল, ২৪০ পিস নিষিদ্ধ প্যারোপটিন ট্যাবলেট এবং চোরাচালাজে ব্যবহৃত ১টি মোটরসাইকেল আটক করা হয়। আটককৃত মালামালের আনুমানিক সিজার মূল্য ধরা হয়েছে ১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৯০০ টাকা।

 

আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন— ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর থানার কাঠালডাংগী গ্রামের মৃত এরশাদ আলীর ছেলে মোঃ শহিদুল ইসলাম (৩০) এবং দক্ষিণ মারাধর গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে মোঃ সানাউল্লাহ (২৯)।

 

ঠাকুরগাঁও সীমান্তে ৫০ বিজিবির এমন সফল অভিযান ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেছেন ঠাকুরগাঁও-২ আসনের মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য ড. আব্দুস সালাম। এক মুঠোফোন বার্তায় তিনি বিজিবির অধিনায়কসহ অভিযানে অংশ নেওয়া সকল সদস্যদের সাধুবাদ জানান।

 

এমপি ড. আব্দুস সালাম আরো বলেন, তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করা আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবি সীমান্তে যে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং প্রতিনিয়ত সীমান্ত সুরক্ষায় কাজ করছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তাদের এই কঠোর অবস্থানের ফলে সীমান্ত এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হচ্ছে। বিজিবির এই দেশের স্বার্থ রক্ষা ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার লড়াইয়ে স্থানীয় জনগণকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

 

সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ বাসিন্দারা জানান, বিজিবির নিয়মিত টহল, টাস্কফোর্স পরিচালনা এবং তাৎক্ষণিক সতর্ক অবস্থানের কারণে পূর্বের তুলনায় এখন সীমান্ত কেন্দ্রিক অপরাধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং চোরাচালান অনেকাংশে কমে এসেছে। বিজিবির এ ধরনের জনকল্যাণমুখী ও আপসহীন পদক্ষেপের কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে নিরাপত্তার আস্থা সুদৃঢ় হচ্ছে।

 

ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি) কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্তে মাদকদ্রব্য, মানব পাচার, চোরাচালান এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধে তাদের এ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ও কঠোর নজরদারি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।