রাশিদুল ইসলাম রাশেদঃ
নাটোরের লালপুরে ইটভাটার জন্য ফসলি জমি থেকে মাটি কাটায় একটি সচল বৈদ্যুতিক খুঁটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। খুঁটির চারপাশের মাটি সরিয়ে নেয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) রাতে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইটভাটা মালিক মো. মাহাবুল হালসানা (৪৫) ও সাহাবুল হালসানা (৪০) নামের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে লালপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২। খুঁটিটি ভেঙে পড়লে প্রায় প্রায় ২ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে বলে জানিয়েছেন নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর লালপুর জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম।
এজাহার, থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইটভাটার জন্য দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের বাকনাই গ্রামের ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছিল। একপর্যায়ে (LA-10J-77-3) বৈদ্যুতিক খুঁটির গোড়ার মাটি কেটে নেয়া হয়। এতে খুঁটিটির ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। বর্তমানে খুঁটিটি অল্প কিছু মাটির ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। ভারী বৃষ্টি বা ঝোড়ো বাতাসে এটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ ডিজিএম মো. রেজাউল করিম বলেন, রোববার (১৯ জুলাই) সকালে বিলমাড়িয়া এলাকায় অবৈধ মাটি কাটার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে যাওয়ার সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবীর হোসেন বিষয়টি দেখতে পান। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বরকত উল্লাহ জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। এর পরেই ঘটনায় জড়িত দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে। একই সঙ্গে খুঁটিটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ জানান, পল্লী বিদ্যুতের করা মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত সাত মাসে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০টি অভিযান চালিয়ে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন এবং ভূমি অপরাধ ও প্রতিকার আইনে ২৫ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ২২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ সময় প্রায় ১৫ লাখ টাকার বেশি জরিমানা আদায় করা হয়েছে।