মোঃ নুরুল ইসলাম:
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফলে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন করেছে দক্ষিণ নবাবগঞ্জ খালাসিডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬ জন বৃত্তি অর্জন করেছে। এর মধ্যে ৫ জন ট্যালেন্টপুলে (৪ জন ছাত্রী ও ১ জন ছাত্র) এবং ১ জন ছাত্রী সাধারণ কোটায় বৃত্তি লাভ করেছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর চরভদ্রাসন উপজেলায় বৃত্তি পরীক্ষার জন্য মোট ৪৪০ জন শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়। তাদের মধ্যে ১৭৬ জন ছেলে ও ২৬৪ জন মেয়ে। তবে শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ১৯২ জন শিক্ষার্থী, যার মধ্যে ৭৪ জন ছেলে এবং ১১৮ জন মেয়ে।
প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, উপজেলায় মোট ৪০ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করেছে। এর মধ্যে ২০ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ২০ জন সাধারণ কোটায় বৃত্তি পেয়েছে।
চরাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোর মধ্যেও এবার উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। ইমরান খাটডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২ জন এবং চর হরিরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করেছে।
বিদ্যালয়ভিত্তিক ফলাফলে দক্ষিণ নবাবগঞ্জ খালাসিডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬টি বৃত্তি অর্জন করে শীর্ষস্থান দখল করেছে। এছাড়া বিএসডাঙ্গী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মৌলভীরচর পশ্চিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৪ জন করে, উত্তর চর সুলতানপুর, বিএমডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর অযোধ্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং চর হরিরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৩ জন করে শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করেছে। গোলাপবাগ তারারমেলা, আলিয়াবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইমানখারডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২ জন করে এবং পূর্ব বিএসডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আরও কয়েকটি বিদ্যালয় থেকে ১ জন করে শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করেছে।
দক্ষিণ নবাবগঞ্জ খালাসিডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুফিয়া খাতুন বলেন, “শিক্ষার্থীদের অক্লান্ত পরিশ্রম, অভিভাবকদের সঠিক তত্ত্বাবধান এবং শিক্ষকদের আন্তরিক দিকনির্দেশনার ফলেই এ সাফল্য এসেছে। করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘদিন বৃত্তি পরীক্ষা বন্ধ ছিল। পুনরায় চালু হওয়া পরীক্ষায় চরভদ্রাসনের মধ্যে সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন করতে পেরে আমরা আনন্দিত। ভবিষ্যতেও এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই।”
চরভদ্রাসন উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজিজুর রহমান বলেন, “শিক্ষকদের নিরলস পরিশ্রম, শিক্ষার্থীদের আন্তরিকতা, অভিভাবকদের সহযোগিতা এবং আমাদের সার্বিক তদারকির ফলেই এ সাফল্য এসেছে। যেসব বিদ্যালয়ের ফলাফল এবার প্রত্যাশিত হয়নি, তারা আগামীতে আরও ভালো করবে বলে আমরা আশাবাদী।”