মোঃ ইকবাল হোসেনঃ
স্বামী ও তিন শিশু সন্তান রেখে চার দিন ধরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন পিংকী (৩৫) নামের এক গৃহবধু। গত ৭ জুলাই (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে ৯টায় বাচ্চাদের বই কেনার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর কোনো খোঁজ মিলছে না। গৃববধু পিংকী উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের ফলিয়া গ্রামের মো. হোসেন মৃধার স্ত্রী ও তিন সন্তানের জননী। হোসেন মৃধা জাহাজের প্রথম শ্রেণির মাস্টার পাশাপাশি নিজে জাহাজের ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে। পিংকীর তিন সন্তান ফিরতে চায় মায়ের কাছে।
এ ঘটনায় শাশুড়ীসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন গৃহবধুর স্বামী হোসেন মৃধা।
জানা যায়, প্রায় ১৭ বছর আগে ফলিয়া গ্রামের আমজাদ হোসেনের মেয়ে আশরাপিয়া পিংকির সাথে একই গ্রামের মনিহাল মৃধার ছেলে হোসেন মৃধা সাথে বিবাহ হয়। তাদের পরিবারের দুই মেয়ে ও একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।
হোসেন মৃধা লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, তার স্ত্রী পিংকীকে নিয়ে ঢাকা উত্তরা একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। পিংকীর মা তার আরেক মেয়ের জামাই শহিদুল ইসলামের আর্থিক প্রয়োজনে হোসেনের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় ১১ লাখ টাকা নিয়ে নেয়। ব্যবসায়ী পার্টনার জৈনক লুৎফর রহমান আমেরিকা অবস্থান করেন। তার কাছে ৬০ লাখ টাকা ব্যবসার টাকা চাইলে সে উত্তরা ব্যাংকের হিসেব নম্বর দিতে বলে। তার নামে উত্তরা ব্যাংকে এ্যাকাউন্ট না থাকায় ভাইরা ভাই শহিদুল ইসলামের হিসেব নম্বর পাঠালে চলতি বছরের প্রথম দিনে সে হিসেব নম্বরে ৬০ লাখ টাকা পাঠায়। সে টাকার পাওয়ার পর স্ত্রী, শাশুড়ী ও ভাইরাভায়ের মধ্যে পরিবর্তন শুরু হয়। টাকা চাইলে বিভিন্ন তালবাহানা শুরু করে। ভয়ভীতি দেখায়। গত ২৯ জুন পাওনা টাকা চাইতে গেলে অভিযুক্তরা তাকে মারধর করে। পিংকী তার সাথে সংসার করবে না বলে জানিয়ে দেয় । পরবর্তীতে এটা নিয়ে স্বজনদের মধ্যেমে মিমাংসা হয়। সে তার পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি আলফাডাঙ্গাতে চলে আসে। বাচ্চাদের স্থানীয় স্কুলে ভর্তি করে দেন। গত ৭ জুলাই সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে বাচ্চাদের বই কেনার কথা বলে আলফাডাঙ্গা সদর বাজারে গিয়ে আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। এ নিয়ে শাশুড়ী সালমা বেগমের কাছে ফোন দিয়ে নিজের স্ত্রীর নিখোঁজের কথা বললে তার সাথে খারাপ আচারণ করেন। গত চার দিন হলো তার বাচ্চাদের কোনো খবর নেয়নি শশুর বাড়ির লোকজন। এতে হোসেন মৃধা ও এলাকার অনেকের সন্দেহ হয় এ রহস্যজনক নিখোঁজের পিছনে শশুড় বাড়ীর লোকজনের হাত রয়েছে।
পিংকীর আপন চাচা মুন্নু মোল্য ও সাবেক ইউপি সদস্য ছালাম মোল্যাসহ একাধিক মানুষ জানান, হোসেন মৃধা একজন ভালো মনের মানুষ। মূলত তার শাশুড়ী একজন লোভী নারী তার জন্য এমন ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের ধারনা।
এ নিয়ে কথা হয় সালমা বেগমের সাথে; তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, জামাই হোসেন মৃধা প্রায় সময় পিংকীর গায়ে হাত তুলতো। খারাপ ব্যবহার করতো। আমার মেয়ে তো তাদের বাড়ি থেকে হারিয়েছে। কোথায় আছে জানিনা। এ ঘটনার পর আমিও থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি মেয়ে হারানোর বিষয়ে। আমিও আমার মেয়ের সন্ধান চাই।
আলফাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)ফকির তাইজুর রহমান বলেন, উভয় পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশের তদন্ত চলমান রয়েছে।