এস. কে বাবুলঃ

 

আজ (১০ আগস্ট) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ের নতুন ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেন। গোপালগঞ্জের গোবরা-ঘোনাপাড়া থেকে ঢাকা রুটে চলাচলকারী এই ট্রেন চালুর মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের একটি প্রত্যাশা পূরণ হলেও প্রকাশিত সময়সূচি নিয়ে শুরু থেকেই যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

 

বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, ট্রেনটি প্রতিদিন ঢাকা থেকে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে গোবরা-ঘোনাপাড়ায় পৌঁছাবে রাত ৭টা ৩০ মিনিটে। পরে রাত ৮টায় গোবরা-ঘোনাপাড়া থেকে ছেড়ে রাত ১১টা ৩০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে। ট্রেনটির সাপ্তাহিক ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে শনিবার।

 

নতুন সময়সূচি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। যাত্রীদের অভিযোগ, একটি কমিউটার ট্রেনের মূল উদ্দেশ্য হলো কর্মজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও চিকিৎসাসেবাপ্রত্যাশী মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত সহজ করা। কিন্তু বর্তমান সময়সূচিতে দিনের বেলায় ঢাকায় গিয়ে কাজ শেষে একই দিনে ফিরে আসার সুযোগ নেই।

 

যাত্রীদের ভাষ্য, প্রতিদিন ভোর বা সকালে হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে ঢাকায় যান এবং বিকেল বা সন্ধ্যায় নিজ নিজ গন্তব্যে ফেরেন। অথচ নতুন ট্রেনটির সময়সূচি সেই বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে দিনের বেলায় যাতায়াতের জন্য তাদের বাধ্য হয়ে বাসসহ অন্যান্য পরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হবে। অনেকেই এ সময়সূচিকে সাধারণ মানুষের চাহিদার প্রতি উপেক্ষা বলেও মন্তব্য করেছেন।

 

স্থানীয়দের মতে, ট্রেনটি যদি সকালে গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে বিকেল বা সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে ফিরে আসত, তাহলে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী এই সেবা গ্রহণ করতেন। এতে যেমন সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমত, তেমনি বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রীসংখ্যা ও আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ত।

 

পরিবহন সংশ্লিষ্টদের অভিমত, যাত্রীবান্ধব সময়সূচি নিশ্চিত না হলে নতুন এই ট্রেন প্রত্যাশিত যাত্রী পাবে না। এতে সম্ভাবনাময় একটি রেলসেবা শুরু থেকেই কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জনে বাধার মুখে পড়তে পারে।

 

এদিকে সচেতন মহল জনগণের বাস্তব চাহিদা, যাত্রীসেবা এবং রেলওয়ের আর্থিক স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেনের বর্তমান সময়সূচি দ্রুত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা না হলে মানুষের প্রত্যাশা পূরণের পরিবর্তে নতুন এই ট্রেনটি হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।