আলিফ হোসেনঃ

রাজশাহীর তানোরের কামারগাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মহসিন আলী জাল সনদের অভিযোগে অভিযুক্ত রয়েছেন।কিন্ত্ত রহস্যজনক কারণে দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এখানো কার্যকর তেমন কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।এমনকি এখানো তিনি যথারীতি বেতন ভাতাসহ সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন।এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক স্থানীয় নেতা ও এমপির তদবির নিতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বলে গুঞ্জন উঠেছে।

 

জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক জাল সনদে নিয়োগ নিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত করা হয়েছে। দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে জাল সনদ নিয়ে নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে।

 

সুত্র জানায়, ২০২৬ সালের ৫মে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ঢাকা কর্তৃক অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্ত এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোন সমাধান দিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

 

রাজশাহী আঞ্চলিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসে জমা দিবে। পরবর্তীতে মহাপরিচালক সিন্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

 

সুত্র জানায়, তানোরে জাল সনদে প্রায় ২৫ বছর অধিক সময় ধরে শিক্ষকতা করছে অভিযুক্ত শিক্ষক। তনোর উপজেলার কামারগাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মহসিন আলী (শরীর চর্চা)। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, বিগত সরকারের সময় তাদের নিয়োগ হয়েছে। ওই সময় থেকে এই পর্যন্ত তারা শিক্ষক পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকে শিক্ষকতার বেতন দিয়ে সংসার পরিচালনা করছেন। এই চাকরি হারালে তাদের আত্মহুতি ছাড়া কোন পথ খোলা থাকবে না। এসব শিক্ষকদের দাবি তারা সঠিক সনদ নিয়েই চাকরি করছেন।

 

এবিষয়ে রাজশাহী আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসের পরিচালক হুমায়ন কবির জুয়েল বলেন, সম্প্রতি তিনি দায়িত্ব গ্রহন করেছেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ঢাকা থেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রত্যেক স্কুল ও কলেজের অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা রির্পোট এখন পর্যন্ত আঞ্চলিক কার্যালয়ে আসেনি। ওই রির্পোট আসলে ডিজিকে প্রেরণ করা হবে। সার্বিক সিন্ধান্ত কেন্দ্রিয়ভাবে হবে।

 

এবিষয়ে জানতে চাইলে কামারগাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মহসিন আলী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,তিনি সঠিক নিয়মে চাকরি করছেন,তিনি বলেন,সরকার যদি বেতন বন্ধ করে দেন তাহলে তিনি বেতন পাবেন না। এবিষয়ে কামারগাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক(ভারপ্রাপ্ত) নওশাদ আলী বলেন, তিনি সবেমাত্র দায়িত্ব পেয়েছেন বিষয়টি তার জানা নাই।