কাজল ইসলামঃ
রাজারহাট আনন্দবাজার সড়কের কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চরম অবহেলায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা। দ্রুত প্রতিকার চেয়ে মানববন্ধন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান।
কুড়িগ্রাম রাজারহাট উপজেলায় আজ ৪ জুলাই রবিবার সকাল ১১ টার সময় রাজারহাট সোনালী ব্যাংক চত্বরে আনন্দবাজার সড়কের কাজের বেগতি কে কেন্দ্র করে মানববন্ধন ও গণবিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রেল-নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটি রাজারহাট শাখার উদ্যােগে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ আনন্দবাজার রাস্তার কাজ দ্রুতকরণ এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলার শাস্তির দাবি জানান বক্তারা।
পরে স্থানীয় সংশ্লিষ্ট দপ্তরসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেন, রাজারহাট উপজেলা সদরের সোনালী ব্যাংক মোড় থেকে ফরকেরহাট হয়ে আনন্দবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত এই ১২ কিলোমিটার সড়কটি প্রায় ৫০ হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। প্রায় ১৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ের এই বৃহৎ সংস্কার প্রকল্পটি গত ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখের মধ্যে শেষ করার চুক্তি থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলায় তা এখন পর্যন্ত সমাপ্ত হয়নি। স্মারকলিপি আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘ দেড় বছর ধরে রাস্তার খুঁড়ে রাখার ফলে বর্তমানে এটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, রাস্তা খুঁড়ে রাখার ফলে উড়ন্ত ধুলোবালির কারণে এই পথে যাতায়াতকারী স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ শ্বাসকষ্টসহ নানান ধরণের ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। সড়কটি সম্পূর্ণ চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ায় মুমূর্ষু রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার সার্ভিসের গাড়িও সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না।
এই সুযোগে রিকশা ও অটোরিকশা চালকরা দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছে, যা নিম্নবিত্ত মানুষের ওপর বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এলজিইডি কর্তৃপক্ষ বারবার চিঠি দিলেও রহস্যজনক কারণে ঠিকাদার কাজ বন্ধ রেখেছেন, যা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।
এ সময় পথচারী সোহানুর রহমান শামীম বলেন, এভাবে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে আর কতদিন কতৃপক্ষ কাজ বন্ধ রাখবে? দ্রুত কাজটা সম্পন্ন করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি সরকারের কাছে।
সমাবেশে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে সমুন্নত রাখতে। এবং রাজারহাট উপজেলার মানুষের দুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি। অন্যথায় সাধারণ মানুষ নিজেদের অধিকার আদায়ে আরও কঠোরতর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।
মানববন্ধন ও গণবিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, রেল-নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির সংগঠক খন্দকার আরিফ,তারেক রহমান ও আব্দুল্লাহ আল মামুন।
স্মারকলিপি প্রদানকালে রাজারহাট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা তাসনিম বলেন, আসার পর থেকে এই অভিযোগটি শোনে আসছি। তবে এবার গুরুত্ব সহকারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন।