কাজী আমিনুল ইসলামঃ
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে রেলওয়ের কোটি টাকার সম্পত্তি নিয়ে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির একাংশ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। এ নিয়ে উভয় পক্ষ রোববার (০৫.০৭.২৬) পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছেন। কামারগ্রামস্থ পাঞ্জেরী মডেল মাদ্রাসা চত্বরে সকাল ১১টায় সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াতে ইসলামী। বিকেল ৪টায় হাসপাতাল রোডের নিজস্ব বাসভবনে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু। বোয়ালমারী রেল স্টেশনের পশ্চিমে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে মূল্যবান এ সম্পত্তির অবস্থান।
জামায়াতের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পাঞ্জেরী মাদরাসার অধ্যক্ষ ও পৌর জামায়াতের আমির সৈয়দ নিয়ামুল হাসান। পাঞ্জেরী মডেল মাদরাসার লিজকৃত রেলওয়ের জমি অবৈধভাবে দখল করে রাখার অভিযোগ তোলেন উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা সামসুদ্দিন মিয়া ঝুনুর বিরুদ্ধে। জমি উদ্ধার করে বৈধ দখল বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, পাঞ্জেরী মডেল একাডেমির তৎকালীন অধ্যক্ষ পৌর জামায়াতের নায়েবে আমির আবুল কাশেম মাহমুদের নামে প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ১৯৯৩ সালের ১৪ এপ্রিল ০৪৯৫০ নম্বর লাইসেন্সের আওতায় রেলওয়ের ১ একর জমি লিজ নেওয়া হয় এবং ২০০৫ সাল পর্যন্ত নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করা হয়েছে। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর স্টেশন মাস্টার গোলাম রসূলের মাধ্যমে ০৭৭৪২/২ নম্বর লাইসেন্সের আওতায় ২৭০/৬ থেকে ২৭০/৯ নম্বর খাম্বার মধ্যবর্তী ০.৬৬ শতাংশ জমিও লিজ নেওয়া হয়। ওই জমির খাজনা ২০২৭ সালের ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত পরিশোধ করা হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সাল থেকে সামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু প্রভাব খাটিয়ে লিজকৃত জমি জোরপূর্বক দখলে রাখেন। পরে তিনি ওই জমি প্লট আকারে বিভক্ত করে অন্যদের কাছে কোটি কোটি টাকায় বিক্রি করেছেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি বলে দাবি করেন বক্তারা।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, পাঞ্জেরী একাডেমি বর্তমানে মাদরাসায় রূপান্তরিত হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত জায়গার প্রয়োজন। তাই রেলওয়ের লিজ নেওয়া জমি পুনরুদ্ধার করে প্রতিষ্ঠানের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এ সময় প্রতিষ্ঠানের সাবেক অধ্যক্ষ ও লিজগ্রহীতা আবুল কাশেম মাহমুদও বক্তব্য রাখেন।
তিনি বলেন, রেলওয়ের নীতিমালা অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠানের নামে লিজ দেওয়া হয় না। তাই প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে তার ব্যক্তিগত নামে জমিটি লিজ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে সেই জমি জোরপূর্বক দখলে রাখা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন এবং বৈধ দখল বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।

এ সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদ জানিয়ে বিকেল ৪টায় নিজ বাড়িতে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন সামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু। তিনি বলেন, জামায়াতের নেতারা আমার বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ এনেছেন তা সম্পুর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। কারও কোন সম্পত্তি আমি দখল করিনি। রেলওয়ের যে সম্পত্তির কথা তাঁরা (জামায়াত) বলছেন সেই সম্পত্তি রেলওয়ে কতৃপক্ষ আমার নামে বরাদ্দ দিয়েছে। সেই এক একর ৬ শতাংশ জমির খাজনা বাবদ প্রায় ৭০ হাজার টাকা এ বছরের ১৫ জুন পরিশোধ করেছি। মিথ্যা তথ্য দিয়ে আবুল কাশেম মাহমুদ জমি লিজ নিয়েছিল। পরে রেলওয়ে কতৃপক্ষ জানতে পেরে ২০০৫ সালের ২২ নভেম্বর তাদের লিজ ও লাইসেন্স বাতিল করে। আমার বিরুদ্ধে প্লট আকারে জমি বিক্রির যে অভিযোগ দিয়েছে তাও মিথ্যা। হাসপাতালের সামনে দিয়ে যারা ঘর করে ব্যবসা বানিজ্য করছে তারা সকলেই রেলওেয়ের নিকট থেকে নিজ নিজ নায়ে লিজ নিয়েছে। এ সময় ঝুনু মিয়ার পক্ষে বক্তব্য রাখেন সাবেক পৌর কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবদলের সভাপতি মিনহাজুর রহমান লিপন মিয়া।
উল্লেখ্য, বোয়ালমারী উপজেলায় বিএনপির দুটি ধারা প্রবাহিত রয়েছে। সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বৃহত্তর অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অপর একটি অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনের আগে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু।