ইসমাইল হােসেন বাবুঃ

কুষ্টিয়ায় বেড়েই চলেছে হাম সংক্রমণের প্রাদুর্ভাব।এতে জনমনে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আট মাস বয়সী ইব্রাহিম ও আফরান এবং পাঁচ মাস বয়সী আইজা নামের তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

 

জানা গেছে, শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু ইব্রাহিমের মৃত্যু হয়। সে দৌলতপুর উপজেলার চঞ্চল হোসেনের ছেলে।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা.হোসেন ইমাম জানান, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে হামের উপসর্গ নিয়ে তাকে ভর্তি করা হয় এবং রাতে তার মৃত্যু হয়।

 

অন্যদিকে,রাত ১২টার দিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু আইজার মৃত্যু হয়। সে কুষ্টিয়া শহরের রেনউক মোড় এলাকার মমিনের মেয়ে।

 

এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. এ এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম জানান, গত চার দিন ধরে শিশুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। রাতে তার মৃত্যু হয়।

 

এরআগে,ভোর ৬টার দিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামের উপসর্গ নিয়ে আট মাস বয়সী আফরানের মৃত্যু হয়। সে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ভাদালিয়া গ্রামের আল আমিনের ছেলে।

 

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ইতোমধ্যে হাম রোগীদের জন্য আলাদা ‘হাম কর্নার’ চালু করা হয়েছে। তবে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় অনেককে সাধারণ শিশু ওয়ার্ডেও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে,এতে শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে।

 

জেলা সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে, জেলায় অন্তত ৩০০-এর বেশি শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৭৫ জন শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। এখন পর্যন্ত জেলায় তিনটি শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।

 

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, হামের টিকার স্বল্পতা, সচেতনতার ঘাটতি এবং বাইরের জেলা থেকে মানুষের আগমন সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তিনি আরও বলেন, আক্রান্ত শিশুদের জন্য জেলার সব হাসপাতালে ‘হাম আইসোলেশন কর্নার’ চালু করা হয়েছে এবং টিকা পাওয়া মাত্র দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হবে।