মানিক কুমার দাস:
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ আব্দুর রহিম বলেন, মানবদেহের পুষ্টি চাহিদা পূরণসহ মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র হ্রাস করে দেশের বেকারত্ব দূর করা সম্ভব। মাশরুম চাষে ফসলী জমির প্রয়োজন হয় না, তাই ঘরের কোণায় চাষ করে পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা মেটানো যায়। হালাল, পুষ্টি ও ঔষধী গুণসম্পন্ন মাশরুম চাষ এবং বিপণনে দেশের বিপুল জনগণ উপকৃত হবে।
“সুস্থ সবল দেহ চান, নিয়মিত মাশরুম খান” স্লোগানকে সামনে রেখে শনিবার দুপুরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে আঞ্চলিক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, কৃষকের কাছে এটি লাভজনকভাবে উপস্থাপন করতে পারলে মাশরুম চাষের প্রসার ঘটবে। বিভিন্ন মেলায় মাশরুমের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির সুব্যবস্থা করা দরকার। এছাড়া, মাশরুম চাষীদের উন্নয়নে ব্যয় কমাতে সেচ কমিটির মাধ্যমে কৃষি উদ্যোক্তাদের বিদ্যুৎ বিল সুলভ মূল্যে প্রদান করার পরামর্শ দেন। তিনি সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে খাদ্য তালিকায় মাশরুমের পণ্য সরবরাহের তাগিদ দেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ফরিদপুরের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ খইরুদ্দিন মোল্যার সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য রাখেন ঢাকা খামারবাড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) কৃষিবিদ নজরুল ইসলাম, পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র হ্রাসকরণ মাশরুম চাষ প্রকল্পের পরিচালক আক্তার জাহান কাকন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ফরিদপুরের উপ-পরিচালক মোঃ শাহাদুজ্জামান, ফরিদপুর কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ কৃষিবিদ বাবলু কুমার সুত্রধর।
এ সময় বক্তারা বলেন, মাশরুমজাত পণ্য বাজারজাত করাসহ রপ্তানি করা হচ্ছে। মাশরুম চাষে জেলায় ৪৪ জন উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে এবং ৩০ জন সহযোগী প্রস্তুতকারী কাজ করছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মাশরুম চাষ বৃদ্ধি ও উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করার জন্য মাঠ দিবস, মেলা, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচার-প্রচারণাসহ প্রদর্শনীর নানা উদ্যোগ চলমান রয়েছে।
এছাড়াও আঞ্চলিক কর্মশালায় অন্যান্য উপপরিচালকগণ, ফরিদপুর ও রাজবাড়ি জেলার কৃষিকর্মকর্তাবৃন্দসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং মাশরুম চাষীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, প্রধান অতিথিসহ কৃষি বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ সদর উপজেলার অম্বিকাপুরে পেঁয়াজ বীজ চাষী সাহিদা বেগমের পেঁয়াজের দানা ক্ষেত পরিদর্শন করেন।