ইসমাইল হােসেন বাবুঃ
কুষ্টিয়ায় আড়াই বছরের শিশুকে হত্যার পর গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন মা রেশমা খাতুন। গত বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) রাত ৭টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ইনসাফনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মৃত রেশমা খাতুন ওই গ্রামের প্রবাসী রহিদুল ইসলামের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বছর দুয়েক আগে রহিদুল বিদেশে পাড়ি জমান। তবে প্রবাসে যাওয়ার পর থেকে তিনি নিয়মিতভাবে সংসারের জন্য টাকা পাঠাতে পারছিলেন না। এতে সংসারে অভাব-অনটন দেখা দেয়। পাশাপাশি অসুস্থ হয়ে পড়েন রেশমা খাতুন। চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে না পেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রথমে মেয়ে লামিয়া খাতুনকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করেন এবং পরে নিজেও গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
দীর্ঘ সময় ঘরের দরজা বন্ধ দেখে প্রতিবেশীরা সন্দেহ করে দরজা ধাক্কা দেন। ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দুজনের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায় দৌলতপুর থানার পুলিশ।
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মণ্ডল বলেন, শিশুসন্তানকে হত্যার পর মা আত্মহত্যা করেছেন, এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা।
দৌলতপুর থানার ওসি সোলাইমান শেখ বলেন, শুক্রবার সকালে মা ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মণ্ডল বলেন, শিশুসন্তানকে হত্যার পর মা আত্মহত্যা করেছেন, এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা।