আসলাম বেপারীঃ
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার ভুবনেশ্বর (লোহারটেক কোল) নদীর তীরে অবস্থিত সদর বাজারে নির্দিষ্ট ময়লা ফেলার স্থান না থাকায় প্রতিদিনের বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে। এতে নদীসহ আশপাশের পুকুরগুলো মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়ছে, যা পরিবেশ ও স্থানীয়দের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করেছে।
বাজারের কাঁচাবাজার, মাছ-মাংস ও ফলের দোকান থেকে প্রতিদিন উৎপন্ন হয় বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক ও জৈব বর্জ্য। সঠিক নিষ্পত্তির ব্যবস্থা না থাকায় এসব বর্জ্য নদীতে ফেলা হচ্ছে। ফলে নদীর পানি ঘোলা হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, এলাকাজুড়ে বেড়ে যাচ্ছে মশার উপদ্রব ও স্বাস্থ্যঝুঁকি।
বাজারের অধিকাংশ বর্জ্য বর্তমানে চরভদ্রাসন মসজিদের পেছনে ফেলা হচ্ছে। এতে নামাজ আদায় ও অজুখানা ব্যবহারে মুসল্লিরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। স্থানীয় কাপড় ব্যবসায়ী ইমরান বেপারী বলেন, “রাস্তা আর নদীর পাড়ে ময়লা ফেলার কারণে মসজিদে যেতে কষ্ট হয়। দুর্গন্ধে থাকা যায় না, পথচারী ও ব্যবসায়ীরা ভোগান্তিতে আছেন।”
চরভদ্রাসনের ইউপি চেয়ারম্যান আজাদ খান বলেন, “আমাদের চরভদ্রাসনে অনেক উন্নয়ন হয়েছে, তবে এটা সত্যি যে এখনো স্থায়ী ময়লার ভাগাড় তৈরি করতে পারিনি-এটি আমাদের ব্যর্থতা। অতি দ্রুত বাজারের ময়লাগুলো সরিয়ে মাথাভাঙ্গার দিকে নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, “একবার ময়লার ভাগাড় তৈরির জন্য বরাদ্দ হয়েছিল, কিন্তু জায়গা সংকটের কারণে তা বাতিল হয়। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ চলছে, খুব শিগগিরই একটি স্থায়ী সমাধান হবে।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা খাতুন বলেন, “মাথাভাঙ্গা এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি খাসকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেখানে একটি ডাম্পিং স্টেশন স্থাপন করা হবে। বিষয়টি নিয়ে আমরা নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে জায়গার অভাবে আমরা ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করতে পারছি না। তবে সমাজের কোনো আগ্রহী ব্যক্তি যদি তার নিজস্ব জমি দান করতে আগ্রহী হন, তাহলে সেখানে একটি ডাম্পিং স্টেশন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আলমগীর মোল্লা জানান, “প্রশাসন আমাদের একটি স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে। আগেও উদ্যোগ নেওয়া হলেও, স্থায়ী জায়গার অভাবে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।আমি সকল বেবসাইর পক্ষ থেকে এই সমস্যার সমাধান চাই। ”
এদিকে চরভদ্রাসন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে পুকুরে ময়লা ফেলার কারণে শিক্ষার্থীরাও দুর্ভোগে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ মস্তফা বলেন, “ময়লার কারণে পুকুরের পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গেছে, মাছ মারা যাচ্ছে, আর আশপাশে কুকুরের উপদ্রব বেড়েছে। শিশুদের হাতে খাবার দেখলে সেই কুকুরগুলো ধাওয়া করে। শিশুদের নিরাপত্তাও ঝুঁকিতে রয়েছে।”