ইসমাইল হােসেন বাবুঃ
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন লোকসঙ্গীতের কিংবদন্তি শিল্পী ফরিদা পারভীনকে স্মরণ করে আজ রবিবার (৫ অক্টোবর) সকালে কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
কুষ্টিয়া জেলা সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে স্মরণ সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. খালেদউজ্জামান মিজান।
সংগঠনের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চুর সভাপতিত্বে এবং কবি হাসান টুটুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কুষ্টিয়া রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট গোলাম মহম্মদ, কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক পারভেজ মাজমাদার ও আক্তারুজ্জামান কাজল মাজমাদার, কুষ্টিয়া জেলা কালচারাল অফিসার সুজন রহমান, জেলা সাংস্কৃতিক জোটের সদস্য সচিব রবি হাসানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এই সময় বক্তারা বলেন, ফরিদা পারভীন ছিলেন লালনগীতি ও লোকসংগীতের একজন কিংবদন্তি শিল্পী। যিনি লালন গানের রানী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর সঙ্গীত জীবন নজরুলগীতি ও আধুনিক গান দিয়ে শুরু হলেও লালন সাঁইয়ের গান তাকে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি এনে দেয়। লালন শাহ্-এর গানকে ফরিদা পারভীনই বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেছেন। তাঁকে মূলত লালনগীতি গানের জন্য সবাই চিনলেও, শাস্ত্রীয়, আধুনিক ও দেশাত্মবোধক গানেও তাঁর দক্ষতা ছিল অতুলনীয়।
প্রসঙ্গত, ১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়ায় জন্ম নেওয়া ফরিদা পারভীন বাবার চাকরির সুবাদে ছোটবেলা থেকে কুষ্টিয়ায় বড় হন। মাত্র ১৪ বছর বয়সে ১৯৬৮ সালে পেশাদার সঙ্গীত জীবন শুরু করেন। ৫৫ বছরের সঙ্গীত জীবনে লালন সঙ্গীতে তিনি গড়ে তুলেছিলেন নিজস্ব এক ঘরানা। খাঁচার ভিতর অচিন পাখি ও বাড়ির কাছে আরশিনগরসহ বহু জনপ্রিয় লালনগীতি তার কণ্ঠে জীবন্ত হয়ে ওঠেছে। শ্রোতারা ভালোবেসে তাকে ‘লালনকন্যা’ উপাধি দিয়েছিলেন।