আসলাম বেপারীঃ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের ধোপাডাঙ্গী এলাকায় প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ইটের সলিং রাস্তা দীর্ঘ ২০ বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় চলাচলের সম্পূর্ণ অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি পানিতে তলিয়ে যায় এবং স্থানে স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। এর ফলে শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষসহ হাজারো গ্রামবাসীর জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এই জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি পাকাকরণ করা হচ্ছে না। নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি।

৮০ বছর বয়সী প্রবীণ রফি মৃধা আক্ষেপ করে বলেন, “প্রতিবার জনপ্রতিনিধিরা শুধু আশ্বাসই দেন, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। বর্ষাকালে রাস্তাটি পানিতে এমনভাবে ডুবে যায় যে যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এমনকি নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে যাওয়াও সম্ভব হয় না।”

আরেক ভুক্তভোগী আলিয়া বেগম জানান, “সামান্য বৃষ্টি হলেই এই রাস্তায় ভ্যান, রিকশা বা অটোরিকশা চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অন্যের বাড়ির উঠান দিয়ে বিকল্প পথে চলাচল করতে হয়। কিন্তু সব সময় সেই সুযোগ থাকে না। রাস্তার ওপর সারাবছরই পানি জমে থাকে। এই রাস্তা দিয়ে এখন কোনো কাজই হয় না। স্কুল, মসজিদ বা মাদ্রাসায় যেতে হলে অন্যের আঙিনা দিয়ে ঘুরতে হয়। সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় রোগী নিয়ে। অ্যাম্বুলেন্সও গ্রামে ঢুকতে পারে না।”

চর সুলতানপুর থেকে গাজিরটেক সড়কের ধোপাডাঙ্গী মৃধা বাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত এই ত্রিমুখী সড়কটি বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে ধসে গিয়ে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাজিরটেক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী বলেন, “এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তা। আমরা বিষয়টি নিয়ে উপজেলা এলজিইডি ও জেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছি।আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, খুব শিগগিরই রাস্তাটি পাকাকরণের কাজ শুরু হবে।”

উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল সাত্তার জানিয়েছেন, “যেসব রাস্তায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে, সেগুলো অনেক আগে এইচবিবি দ্বারা উন্নয়ন করা হয়েছিল। রাস্তাগুলো পুনরায় টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে আমরা ইতোমধ্যে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। অনুমোদন পেলেই আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করব।” এই সড়কটির বিষয়ে রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চরভদ্রসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরা খাতুন বলেন, নতুন অর্থবছরে আমরা বেশ কয়েকটি সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি, সেই সঙ্গে এই সড়কটিকে সংস্কার করে সুন্দরভাবে চলাচল উপযোগী করা হবে।