শাকিল মিয়াঃ
বরিশালের শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বরগুনার আমতলী উপজেলার গৃহবধূ আসমা বেগম (৪০)।
তিনি গত বুধবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে নতুন করে ১৫১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু বরগুনাতেই সর্বাধিক ৫৬ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল জানান, বরিশাল বিভাগের সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু সংক্রমিত হয়ে মারা গেছেন বরগুনা জেলায়। বিভিন্ন হাসপাতালে গত ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ৩৮১ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বরগুনায় ৫৬ জন, বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ২২ জন, বরিশাল জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ১৭ জন, পটুয়াখালীতে ২৩ জন, পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৫ জন, ভোলায় পাঁচজন ও পিরোজপুরে সাতজন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বরগুনায় প্রতিদিনই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। জনসচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রেজওয়ানুর আলম বলেন, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় শুধু বরগুনা সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৪২, বেতাগীতে ০৪জন,বামনায় ০১, আমতলীতে ০১ ও পাথরঘাটায় ০৭জন আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ১০৬ জন। এ বছর জেলায় এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৬৮১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬ হাজার ৫৭৫ জন। বরগুনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এখন পর্যন্ত ১১জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ঢাকা, বরিশাল বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন আরো ৩৮ জন। এ নিয়ে জেলায় মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯ জনে।