ইসমাইল হোসেন বাবুঃ

 

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ৪ দিন যাবত ঝিরঝিরি ও মাঝারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আজ বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এক টানা বৃষ্টি। চারিদিকে মেঘের গর্জন। বৃষ্টির কারণে ভেড়ামারা শহরের বিভিন্ন সড়কে পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে ছোটবড় জলাবদ্ধতা। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও বাজারের ব্যবসায়ীরা।

 

টানা বৃষ্টিতে ডুবে গেছে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা শহরের সড়ক থেকে মার্কেটের নানা অলিগলি , পানি ঢুকে পড়েছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। অধিকাংশ রাস্তাঘাট পানিতে নিমজ্জিত। দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে জনজীবন। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে পৌর এলাকার হাজারো মানুষ। গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত থেকে শুরু হয়েছে বৃষ্টি আর বৃষ্টি। বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে ভেড়ামারা পৌর এলাকার নয়টি ওয়ার্ডের মধ্যে তিনটি ওয়ার্ড। প্রধান সড়কে পানি । অপরিকল্পিত ড্রেনের কারণে বসত ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে।

 

আজ বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের বড় মসজিদ গলিতে হাঁটু পানি জমে গেছে। মসজিদে নামাজে যাওয়া মুসুল্লিরা হাঁটুপানি মাড়ি দিয়ে মসজিদে যাচ্ছে। কলেজ বাজার অলিগলি, পৌর মার্কেটে হাঁটু পানি ভেড়ামারা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে, শহরের গোডাউন মোড়। ভেড়ামারা উপজেলার সামনে অনেক জায়গায় হাঁটুপানি জমে আছে। মানুষ চলাচলে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এ ছাড়া, অনেক দোকান ও বাসাবাড়িতে পানি উঠে গেছে। রাস্তা-ঘাটে পানি জমে থাকায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক ও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।

 

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে পৌর এলাকায় নয়টি ওয়ার্ডের মধ্যে তিনটি ওয়ার্ডই পানি নিমজ্জিত। ১ ২ ও ৫ নং ওয়ার্ডে অলি গলিতে হাঁটু পানি জমে গেছে। টানা ঝিরিঝিরি থেকে মাঝারি বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারত না। অনেকেই বাধ্য হয়ে ভিজে কষ্টে রিকশা ভ্যানে চড়ে গন্তব্যে স্থানে পৌঁছেছেন।

 

ব্যবসায়ীরা জানান, হাট-বাজারে ক্রেতা সমাগম অনেক কমে গেছে। বৃষ্টির কারণে দোকানে পানি ঢুকে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীরাও জানান, স্কুলে যেতে ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে তাদের।

 

ভেড়ামারা কৃষি কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত আশিকুর রহমান জানান, টানা বৃষ্টিতে উপজেলার কৃষকরা শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। মাঠে আমন ধান ও শাকসবজির ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা। তবে দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টির অভাব থাকায় অনেকেই এটিকে ফসলের জন্য আশীর্বাদ বলেও মনে করছেন।