হানিফ উদ্দিন সাকিবঃ
হাতিয়ার কৃতী সন্তান, শিক্ষক ও সমাজকর্মী মুহাম্মাদ শাহাদাত হোসাইন ২০২৫ সালে সুবর্ণচর উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত “শ্রেষ্ঠ ও গুণী শিক্ষক প্রতিযোগিতা”-তে সহকারী শিক্ষক ক্যাটাগরীতে ‘গুণী শিক্ষক’ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর এই অর্জনে হাতিয়ার সর্বস্তরের মানুষ গর্বিত।
১৯৮২ সালের ১ মার্চ জন্মগ্রহণকারী শাহাদাত হোসাইন প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন এ.এম. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা লাভ করেন হাতিয়া রহমানিয়া ফাজিল মাদ্রাসায়। পরবর্তীতে নোয়াখালী কারামতিয়া কামিল মাদ্রাসা এবং হাতিয়া দারুল উলুম কামিল এম.এ মাদ্রাসা থেকে কামিল পাশ করেন ২০০৪ সালে। তিনি নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে বি.এ ও এম.এ ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া ফেনী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বি.এড এবং মাইজদী পি.টি.আই থেকে পি.টি.আই সম্পন্ন করেন। ২০০৭ সালে সহকারী শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
২০০৮ সালে কর্মজীবন শুরু করেন কোম্পানিগঞ্জ চরহাজারী মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় সহ-সুপার হিসেবে। এরপর ২০০৯ সালের ৫ মে সুবর্ণচর উপজেলার উত্তর চরক্লার্ক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। প্রায় ১৬ বছরের অভিজ্ঞতায় শিক্ষাক্ষেত্রে তিনি এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
শিক্ষকতার পাশাপাশি সামাজিক ও সংগঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন শাহাদাত হোসাইন। ২০০১ সালে নোয়াখালীতে হাতিয়া ছাত্র কল্যাণ পরিষদ গঠন করেন এবং সভাপতি নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি সংগঠনটির উপদেষ্টা। ২০২২ সালে হাতিয়া যুব কল্যাণ পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া হাতিয়া সমিতি নোয়াখালী, হাতিয়া রহমানিয়া ফাজিল মাদ্রাসা সাবেক ছাত্র পরিষদ, নোয়াখালী সরকারি কলেজ বাংলা বিভাগ এলামনাই এসোসিয়েশন, হাতিয়া ব্লাড ব্যাংক, মানবকল্যাণ সংগঠন সুবর্ণচরসহ একাধিক সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত আছেন। তিনি বর্তমানে হাতিয়া সম্মিলিত সামাজিক সংগঠন এবং হাতিয়া নাগরিক কল্যাণ পরিষদের প্রস্তাবিত সদস্য সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
শিক্ষা ও সমাজসেবার পাশাপাশি তিনি লেখালেখিতেও সক্রিয়। নোবেল, সচিত্র নোয়াখালী, হাতিয়া কণ্ঠ, হাতিয়ার কথা, নিঝুম দ্বীপসহ বিভিন্ন পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়েছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান এবং সমাজসেবায় সক্রিয় ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ‘গুণী শিক্ষক’ নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর এ অর্জনে হাতিয়ার সর্বস্তরের মানুষ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। সবাই আশা প্রকাশ করেছেন, শিক্ষাক্ষেত্রে ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁর অবদান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।