বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাদেরকে আমি অনেক পছন্দ করি, যারা রাজপথকে মনে করে ঘর-সংসার-পরিবার। এমন নীতি থেকে কাজ করেছেন মওলানা ভাসানী, শেরেবাংলা একে ফজলুল হক, আমার প্রিয় ভাষা মতিনসহ গত শত বছরের রাজনীতিতে শতাধিক রাজনীতিক। তাদের সবার প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল। তেমনই একজন নতুন প্রজন্মের র্জানীতিক মোমিন মেহেদী। যাকে আমি স্নেহ করি, সাহস যোগাই অন্যায়-অপরাধ-দুর্নীতি-খুন-গুম-ধর্ষণ-নির্মমতার বিরুদ্ধে যুদ্ধে থাকা এই সময়সাহসীকে। ২০১৮ সালের ১৫ মার্চ রাতে তৎকালিন সরকারের বিশেষ বাহিনী দ্বারা গুমের শিকার হয় মোমিন মেহেদী। ১০ দিন পর ২৫ মার্চ রাতে নির্যাতন করতে করতে মৃত ভেবে ফেলে যাওয়ার পর দীর্ঘ চিকিৎসায় নতুন জীবন পেয়ে আবারো সোচ্চার হয়ে ওঠে অপরাধ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে। আর তাই আমার দেখা, আপনার দেখা তথাকথিত তরুণ নেতাদের মত ষাট বছরের বা ৫০ বছরের তরুণ নয় নতুনধারার রাজনীতির প্রর্বতক মোমিন মেহেদী। কথা কাজে এক থাকা মোমিন মেহেদী উত্তরাধিকার ব্যতিত আরো কোন যোগ্যতা নেই এমন নেতা তারেক, মাহী, পার্থ, ববির মত নয় । শুধু আমার দৃষ্টিতে নয়; গণমাধ্যমের দৃষ্টিতেও বর্তমানে নতুন প্রজন্মের কাছে একাধারে রাজনীতিক-কলামিস্ট-কবি-গীতিকার-সুরকার-শিল্পী-সমাজসেবক-সম্পাদক-প

৬৪ টি বই প্রকাশিত হয়েছে তাঁর। প্রতিদিন লিখছেন বিভিন্ন পত্রিকায় কলাম-কবিতা-ছড়া-প্রবন্ধ-নিবন্ধ-গল্প ইত্যাদি। আর রচিত প্রতিটি পঙ্তিতে তিনি নির্মাণ করছেন নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির সাথে সাথে সততায় অগ্রসর হওয়ার কথা। বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের জীবন থেকে দেখে দেখে খইফোটা রোদ্দুরে হাঁটতে হাঁটতে রচনা করছেন নির্মল লোভ- মোহহীন নিরন্তর রাজনৈতিক কর্মকান্ড। তিনি মনে করেন, নতুন প্রজন্মের রাজনীতির অপর নাম হবে বাংলাদেশকে-বাংলাদেশের মানুষকে ভালোবেসে সাহসের সাথে তৈরি করা কবিতা-ছড়া-গল্প-নাটক-উপন্যাস-প্রবন্ধ-নিবন্ধ-কলাম সহ সৃজনশীল সকল কর্মকান্ড। যে কর্মকান্ড মানুষের সংস্কৃতির পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে, অভ্যাসের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে যেতে উপহার দেবে ভোটাধিকার- মৌলিক অধিকার আদায়ের সোচ্চার কন্ঠস্বর; সেই পরিবর্তনের জন্য নতুন প্রজন্মকে ঐক্যবদ্ধ করার মহান দায়িত্বটি তিনি নিজেই কাঁধে তুলে নিয়েছেন। ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর যে সাহসের-সম্ভাবনার স্বপ্ন নিয়ে আত্ম প্রকাশ করেছিলো লাল পোশাক পরিহিত শত শত ছাত্র-জনতা-আবাল-বৃদ্ধ-বণিতার রাজনৈতিকধারা নতুনধারা বাংলাদেশ-এনডিবি; সেই সাহস-সম্ভাবনার রাস্তায় চলতে চলতে বলতে বলতে এখন সারাদেশে ৩৭ যে বিপ্লব বাম বা ডানদের ধার করা, ভাড়া করা পাশ্চাত্যের বা মধ্যপ্রাচ্যের উগ্রবাদী দর্শন নামক কষ্ট আর রাজনৈতিক প্রহসন নয়।

 

আমাদের রাষ্ট্রিয়-সামাজিক ও ব্যক্তি জীবন থেকে উৎসারিত তন্ত্র। যে তন্ত্রের হাত ধরে আগামীর বাংলাদেশ এমনকি বিশ্বও বদলে যেতে পারে। কথায় আছে ‘বৃক্ষ তোমার নাম কি?’ ‘ফলে পরিচয়’। আমাদের রাজনীতির পুরোধা ব্যক্তিত্ব, আমাদের রাজনৈতিক মুক্তির অগ্রপথিক মোমিন মেহেদী এবং নতুনধারার বেলায় এই কথাটি অক্ষরে অক্ষরে বিশ্বাস করি। প্রমাণ দিতে চাই কাজে, কাজে এবং কাজে। যে কারনে নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিগন নিজেদের রুটি-রুজী-জীবন-জীবিকার ব্যবস্থাটি আগে করে তারপর যতদূর সম্ভব বিনম্র ভালোবাসায় আন্তরিকতার সাথে তৈরি করছে ছাত্র-যুব-জনতা-আবাল-বৃদ্ধ-বণিতার রাজনৈতিক ঐক্যবদ্ধতা। মহান স্রস্টার প্রতি সর্বোচ্চ কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রতিটি ভোর আসে সাহসের রাজনীতিক মোমিন মেহেদীর। তিনি ইসলাম ধর্মের অনুসারী হলেও কোন ধর্মের প্রতি অবমাননা বা অতি উৎসাহি হওয়ার বিরুদ্ধে নিজস্ব অবস্থান নির্মাণ করেছেন। নিজে যতদূর সম্ভব ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করবেন, কিন্তু কাউকে ধর্মীয় দায়িত্ব পালনে নিরুৎসাহিত না করে যতদূর সম্ভব বিনম্র শ্রদ্ধার সাথে-বিনয়ের সাথে অনুপ্রাণিত মোমিন মেহেদীর রাজনীতির সাথে তার আদর্শিক-কাব্যজ পথচলা লোভ- মোহহীনভাবে বিনম্র শ্রদ্ধার কথা বলে চলেছে।

 

আমাদের শূণ্য দশকের খুব কম লেখকই আছেন, যারা সৈয়দ শামসুল হকের মত সব্যসাচী। মোমিন মেহেদী সেই শূণ্যতা পূরণ করার পাশাপাশি সব্যসাচী লেখক তো অবশ্যই; সাথে সাথে তার রাজনীতিও তাকে করে রেখেছে সবার চেয়ে অনন্য। তার সাথে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক না থাকলেও ২৮ আগস্ট জন্মদিন হওয়ায় আমি মনের সবটুকু আন্তরিকতা শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা সাথে নিয়ে তার প্রায় ১৫ টি গ্রন্থ সংগ্রহ করেছি এবং পাঠ করেছি। আর সেই পাঠ ও পঠন থেকে জেনেছি, সময়ের আলোচিত তরুণ রাজনীতিক-লেখক মোমিন মেহেদীর জন্ম ১৯৮৫ সালের ২৮ আগস্ট ময়মনসিংহে। তার পৈত্রিক নিবাস বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে হলেও লেখালেখি ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে তিনি রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে স্বনামে পরিচিত। তিনি সাংগঠনিকভাবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে শীর্ষ একটি ছাত্র সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে ছিলেন। সাথে সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক শিক্ষা-সাহিত্য-সাংস্কৃতিক-সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন সাউন্ডবাংলা’র নির্বাহী পরিচালক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার আন্দোলন জোটের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

 

স্বাধীনতার যে সাম্পানের বৈঠা হাতে তার সাথে সাথে পাল তুলে দিয়ে আরো গতি বাড়িয়েছেন নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক আন্দোলন নতুনধারা বাংলাদেশ-এনডিবি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রিন্সিপাল শান্তা ফারজানা। ২০০৭ সালের কথা। তখনো নতুনধারা বাংলাদেশ নামক কোন স্বপ্ন চোখের স্যালুলয়েডে এসে সমবেত হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অবস্থায় রাজনৈতিক কালো অধ্যায়ের কারণে হল ছাড়তে হয় ছাত্র আন্দোলনের তৎকালিন প্রিয়মুখ মোমিন মেহেদীকে। সাংবাদিকতার পাশাপাশি স্বাধীনতার স্বপক্ষের রাজনৈতিক চেতনায় আন্তরিক ছিলেন একটি শীর্ষ ছাত্র সংগঠনের শীর্ষ পদে। যে দায়িত্ব পালনে তিনি নির্ভিক ছিলেন, সেই দায়িত্ব পালনের জন্য তাকে করতে হয়েছে অসংখ্য নির্যাতন সহ্য। একদিকে পুলিশি নির্যাতন, অন্যদিকে যুদ্ধাপরাধীদের দোসর ছাত্র সংগঠন শিবিরসহ বিভিন্ন নিকৃষ্টতর রাজনৈতিক পাষন্ডদের কারনেও ক্যাম্পসের বাইরে আবাস গড়তে হয় তাকে। এই সময়ে পরিচয় হয় ভিকারুননিসা নূন স্কুল থেকে এসএসসি ও সিটি কলেজ থেকে এ প্লাস পাওয়া মেধাবী শিক্ষার্থী শান্তা ফারজানার সাথে। আন্দোলন-সংগ্রামে মুগ্ধ হয়ে পাশে পাশে সবসময় আন্তরিক ছিলেন শান্তা। তাঁর সেই আন্তরিকতায় আরো দৃঢ়তর আন্তরিক হয়ে এগিয়ে আসেন নতুনধারার রাজনীতির স্বপ্নদ্রস

দুর্নীতিবাজ-সন্ত্রাসী আর চাঁদাবাজদের রাজনীতিক হয়ে ওঠা দেখে দেখে ক্লান্ত মোমিন মেহেদী দেশে স্বৈরাচারের রাজনৈতিক প্লাটফর্ম রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসলে তথাকথিত রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে যান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, বিভিন্ন হলে তিনি দিনের পর দিন নতুন প্রজন্ম, নতুনধারা নিয়ে শিক্ষার্থী অনুজদের সাথে যোগাযোগ করতে থাকেন। এই সময়ে তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে শত শত শিক্ষার্থী যোগ দেন নতুনতন্ত্রের রাজনৈতিক দর্শনের সাথে কাজ করার জন্য। বিশেষ করে সেই সময়ে তিনি পাশে পান রওশন কবির বিপুল, চন্দন সেনগুপ্ত সহ অসংখ্য মেধাবীকে। যাদের দ্বারা আত্মপ্রকাশের পথে প্রত্যয়ের সাথে এগিয়ে যায় আজকের নতুনধারা বাংলাদেশ-এনডিবি। এই এগিয়ে চলা চালের দাম বাড়লে ট্রাক মিছিল করে প্রতিবাদ জানায়, ডেঙ্গু ছড়ালে মশারি মিছিল করে সমাধান চায়, শিক্ষাক্ষেত্রে ভ্যাট বসালে লংমার্চ করে। গত ৭ বছর যেমন নতুনধারার রাজনীতির প্রবর্তক কলামিস্ট মোমিন মেহেদী নতুনধারাকে জনগনের দুয়ারে দুয়ারে নিয়ে গেছেন, আগামী ৭০ বছরের রাজনীতিতে নতুনধারা হবে বাংলাদেশ থা বিশ্ববাসীর ভালবাসার রাজনৈতিক ধারা। মোমিন মেহেদী হবে বিশ্বময় আলো আর ভালোর উধাহরণ। ২৮ আগস্ট, ৩৪ তম জন্মদিনে এটাই একজন শিক্ষক হিসেবে বরাবরের প্রত্যাাশা। বিজয় বাংলাদেশ। বিজয় নতুনধারা…

♦ একরামুল হক গাজী লিটনঃ প্রেসিডিয়াম মেম্বার, নতুনধারা বাংলাদেশ (এনডিবি)।