মোঃ ইকবাল হোসেনঃ

 

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় মধুমতী নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলো তীব্র ভাঙনের মুখে পড়েছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামে নদীভাঙন বেড়েছে। ভাঙন হুমকিতে ওই এলাকার নদীর তীরবর্তী হাজারো পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। মধুমতি নদীর ভাঙনরোধে তেমন কোনো সরকারি তৎপরতা নেই। ফলে হুমকিতে পড়েছে এলাকার ১০টি মসজিদ ও ঘরবাড়িসহ বিভিন্ন ইতোমধ্যে ইকড়াইল গ্রামের একটি মসজিদ নদীতে চলে গেছে। ইকড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মাত্র ২০ গজ দূরে রয়েছে মধুমতী নদী। যে কোনো সময় ভাঙনে বিলীন হতে পারে স্কুলটি। ভাঙনের ভয়ে অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছে।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার টগরকন্দ ইউনিয়নের শিকারপুর, টিটা পানাইল, কুমুরতিয়া, ইকড়াইল ও টিটা গ্রামে মধুমতি নদীতীরবর্তী প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মধুমতী নদীর তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে পাঁচ গ্রামের ১০টি মসজিদ, একটি কলেজ, দুটি হাইস্কুল, চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি দাখিল মাদরাসা, একটি কমিউনিটি ক্লিনিক, একটি সাব পোস্ট অফিস, দুটি বড় হাট ও ১০টি মাছ ও গবাদিপশুর খামার, কয়েকটি কাঁচা সড়ক, ঈদগাহ ও কবরস্থানসহ শত শত একর ফসলি জমি, গাছপালাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

 

এলাকাবাসীর দাবি, স্বল্প সময়ের মধ্যে ভাঙন প্রতিরোধ করতে না পারলে পাঁচটি গ্রামের সব কিছু বিলীন হয়ে যাবে। ভাঙন প্রতিরোধে ইতোমধ্যে তারা পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন।

 

এদিকে, ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) সন্তোষ কর্মকার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ. কে.এম  রায়হানুর রহমান ও উপজেলা প্রকৌশলী ভাঙনকবলিত স্থান পরিদর্শন করেছেন।

 

শিকারপুর গ্রামে বাসিন্দা কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, নদী ভাঙনে গত কয়েকদিনে আমার ৪টি বসতঘরসহ পাড়ে ৬৮ শতাংশ জমি বিলীন হয়ে গেছে। এখন নদীর পাড়ে অন্যর জমিতে মিতে স্থাপড়া তুলে বসবাস করছি। কিছু ফসলি জমি আছে, তাও কখন ভেঙে যায় এ দুশ্চিন্তায় আছি।

 

ওই এলাকার বাসিন্দা নিজাম শেখ বলেন, ঘরবাড়ি-ভিটেমাটি হারিয়েছি। দুই একর ফসলি জমি বিলীন হয়েছে। পরিবার নিয়েও দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি। টগরবন্দ ইউনিয়নের শিকারপুর, টিটা পানাইল, কুমুরতিয়া, ইকড়াইল ও টিটা গ্রামের প্রায় শত শত পরিবার তাদের বসতঘর হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। উপজেলার ইকড়াইল চাইল গ্রামের মনির হোসেন বলেন, ইতোমধ্যে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ ভাঙন রোধ না করলে স্বল্প সময়ের মধ্যে এই গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, মাদরাসাসহ অনেক ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে যাবে। ইতোমধ্যে এ এলাকার শত শত মানুষের বসতঘর বিলীন হয়ে গেছে। শত শত একর আবাদি জমি ইতোমধ্যে নদীতে চলে গেছে।

 

টগরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিয়া আসাদুজ্জামান বলেন, ভাঙনের বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক বরাবার চলতি বছরের ২৬ মে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বাঁধ নির্মাণ করার জন্য লিখিত আবেদন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে জানতে চাইলে ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) সন্তোষ কর্মকার বলেন, নদীভাঙনকবলিত স্থানে আলফাডাঙ্গা প্রশাসনের লোকজন নিয়ে পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বর্তন কর্মকর্তাকে অবগত করা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, নদী ভাঙন এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের নিয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। আশা করছি কয়েকদিনের মধ্যে ভাঙন প্রতিরোধে কাজ শুরু হবে। নদী ভাঙন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে সরকারের পক্ষ থেকে সাহায্য সহযোগিতা করা হবে।