রাশিদুল ইসলাম রাশেদঃ
চলতি মৌসুমে নাটোরের লালপুরে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে পাটের দামও ভালো রয়েছে। এতে স্বপ্ন দেখছেন প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের আশা- সোনালী আঁশ এবার তাদের ভাগ্য ফেরাবে। কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এ বছর উপজেলায় ৭ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে যা প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৫৫ হেক্টর বেশি। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ২৭ হাজার মেট্রিক টন। উপজেলার উধনপাড়া গ্রামের পাট চাষী মো. আ. সালাম মণ্ডল (৫০) বলেন, এ বছর ১০ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলাম।
অধিকাংশ পাট জাগ দেয়া হয়ে গেছে, এখন সোনালি আঁশ ছাড়াতে ব্যস্ত সময় পার করছি। বড়বড়িয়া গ্রামের কৃষক আকরাম হোসেন (৫২) বলেন, আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে এখন পর্যন্ত ভালো দামও আছে। আশা করছি পাট বিক্রি করে ভালো লাভ করতে পারবো। এ দাম অব্যাহত থাকলে অনেক বছর পর পাট চাষে কৃষকের স্বপ্ন পূরণ হবে। মোহরকয়া গ্রামের পাট চাষী মো. উজ্জ্বল হোসেন (৩৩) বলেন, কয়েক বছর পাট চাষ করে লাভ করতে পারিনি। এ বছর সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় খুব একটা সেচ দিতে হয়নি।
আবার পাট জাগের জন্য জলাশয় সংকটেও পড়তে হয়নি। পাট বিক্রি করে যে দাম পাচ্ছি তাতে সব কৃষকই লাভবান হবে। তবে এ দাম যেন অব্যাহত থাকে। রহিমপুর গ্রামের পাট ব্যবসায়ী মোঃ মোজাম্মেল হক (৪৫) জানান, গত বছরের চেয়ে আড়তে পাটের বাজার বেশি। আমরাও বেশি দামে কিনছি। প্রতি মণ পাট সাড়ে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকায় ক্রয় করছি। যখন যেমন বাজার, তখন তেমন কেনা।
উপজেলার কৃষক নেতা মো. বাবু আহমেদ (৪১) বলেন, বিগত কয়েক বছর পাট চাষ করে কৃষকরা লাভ করতে পারেনি। কৃষকদের পাট চাষে আগ্রহ বাড়াতে ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতে সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। বন্ধ জুট মিলসগুলো চালু করতে হবে। পাটের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। পাটের সোনালি ইতিহাস ফেরাতে হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় বলেন, পাটের আবাদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে চলতি মৌসুমে কৃষি বিভাগ হতে উপজেলার ১ হাজার ১৫০ জন কৃষকের মাঝে পাটের বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছিল। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় পাটের ফলন ভালো হয়েছে। আশা করছি আগামী বছর পাট চাষ ও উৎপাদন আরও বাড়বে।