মানিক কুমার দাস:

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ফরিদপুর জেলা শাখার উদ্যোগে ৩৬ জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে সমাবেশ ও গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

আজ মঙ্গলবার সকালে ফরিদপুর পুরাতন বাস স্ট্যান্ডের মডেল মসজিদের সামনে সমাবেশ এবং পরবর্তীতে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

 

জামায়াতের জেলা আমির মাওলানা বদরুদ্দীনের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, ফরিদপুর অঞ্চল টিম প্রধান শামসুল ইসলাম আলবরাটি, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যাপক আব্দুত তাওয়াব, ফরিদপুর জেলার নায়েবে আমির ইমতিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, নায়েবে আমির আবু হারিস মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল ওহাব, ফরিদপুর সদর উপজেলা শাখার আমির মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এম. এ. আবুল বাশার, ফরিদপুর পৌরসভা শাখার আমির এহসানুল মাহবুব রুবেল, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সহজ শাখার সভাপতি আকমল হোসেন, সদর উপজেলার নায়েবে আমির ফরিদুল হুদা, পৌরসভার সহকারী সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর হোসেন, ইসলামী ছাত্রশিবির জেলা শাখার সভাপতি হাফেজ ওবায়দুল্লাহ, ফরিদপুর পৌরসভার সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট রেজাউল হোসেন শামীম।

 

সমাবেশে বক্তারা বিগত শেখ হাসিনা সরকারের ১৬ বছরের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেন, “স্বৈরাচার শেখ হাসিনা তার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের উপর দমন-পীড়ন, নির্যাতন চালিয়েছে। একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে বিরোধী নেতৃবৃন্দকে হয়রানি করেছে, মানুষের জীবনকে অস্থিতিশীল করেছে।”

 

তারা আরও বলেন, “গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তার পতন হয়েছিল এবং দেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল। স্বৈরাচার শেখ হাসিনা চলে গেছে, কিন্তু তাদের দোসরেরা এখনো দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করছে।”

 

বক্তারা বলেন, “যে উদ্দেশ্যে ৩৬ জুলাই সৃষ্টি হয়েছিল, তা ছিল বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা, দেশকে মুক্তি দেওয়া এবং চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসী কার্যকলাপ থেকে রক্ষা করা। যারা এখনো ফ্যাসিস্ট শক্তিকে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, যারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত এবং দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে, আমাদের তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে লড়াই করতে হবে।”

 

তারা আরও বলেন, “আমরা তাদের বিরুদ্ধে এমনভাবে ঐক্যবদ্ধ লড়াই করব, যাতে কোনো বিদেশি হায়েনা তাদের পক্ষে কথা বলতে না পারে এবং দেশের ভেতরে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে না পারে। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”

 

সমাবেশ শেষে একটি শোভাযাত্রা শহর প্রদক্ষিণ করে। জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উক্ত শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন।