মানিক কুমার দাসঃ
ফরিদপুরে মাদার অফ জুলাই উপলক্ষে আলোচনা সভা ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শনিবার বেলা বারোটার দিকে জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে ফরিদপুর জেলা প্রশাসন ও মহিলা অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মহিলা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাশউদা হোসেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রামানন্দ পাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামসুল আজম।
বক্তব্য রাখেন এডভোকেট মেহেরুন নিশা স্বপ্না, জুলাই গণ অভ্যুত্থানে শহীদ জান শরিক মিঠুর মা হানুফা আলম, শহীদ সিরাজুল বেপারীর মা ও তার স্ত্রী,
শহীদ শামসু মোল্লার স্ত্রী মেঘলা বেগম, জুলাই যোদ্ধা আহত সজীব ইসলামের মাতা, কাজী রিয়াজের মাতা, জুলাই যোদ্ধা জাকিয়া ফারজানা, কাজী জেবা তাহসিন, আরএম হৃদয়, সোহেল রানা, কাজি রিয়াজ, সাব্বির হোসেন খান, রাফিউল ইসলাম সিয়াম, জান্নাতি খানম প্রমুখ।
সভায় বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কথা তুলে ধরেন এবং তাতে অংশগ্রহণকারী তাদের পরিবারের সদস্যদের হারানোর দুঃখ ও দুর্দশার বর্ণনা দেন।
বক্তারা বলেন, পরিবারের একজন সদস্য হারানো যে কতখানি কষ্টের, তা কেবল পরিবারের বাকি সদস্যরাই বুঝতে পারেন। একজন মা তার সন্তানের অনুপস্থিতি অনুভব করেন প্রতিটি মুহূর্তে।
বক্তারা আরও বলেন, যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাদের ছেলেরা জুলাই গণ অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করেছিল তা পূরণ হয়নি। আমরা আমাদের সন্তানদের হত্যার বিচার পাইনি, তাদের উপর মারধরেরও বিচার পাইনি। উপরন্তু আমরা বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছি। আমাদের প্রিয়জনরা জুলাই অভ্যুত্থানে রক্ত দিয়েছে, অথচ তার যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে না।
তারা প্রশ্ন তোলেন: “আমরা কেন অবহেলিত থাকবো?”
তারা তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ আমাদের উপর হামলা করেছে, আমাদের ছেলেদের আহত করেছে, তাদের গুলি করা হয়েছে। এখনো অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করে হাসপাতালের বিছানায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।
বক্তারা বলেন, অবিলম্বে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন করতে হবে, এবং এ জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।