মানিক কুমার দাসঃ

 

জাতিসংঘ ‌ মানবাধিকার কমিশন কার্যালয় ‌ স্থাপন চুক্তির প্রতিবাদে‌ ফরিদপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফরিদপুর জেলা ‌ জমিয়তে উলামা বাংলাদেশ ও‌ সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর শহরের জনতা ব্যাংকের মোড় হতে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহর প্রদক্ষিণ শেষে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের ‌ সামনে আসলে ‌ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় ‌।

 

চকবাজার জামে মসজিদের খতিব ও‌ সংগঠনের ‌ সভাপতি মুফতি কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য রাখেন জমিয়াতে ‌ ইসলাম বাংলাদেশ ‌ ফরিদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ‌ মাওলানা ইসমাইল হোসেন, ইমাম কল্যাণ ফাউন্ডেশন সভাপতি মৌলানা মনসুর আহমেদ, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক কাজী রিয়াজ, জমিয়াতে ওলামা বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা কবির আহমেদ, মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান, মাহবুবুল ইসলাম কামাল।

 

সভায় বক্তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অবিলম্বে এ ধরনের উদ্যোগ‌ বাতিল করার‌ দাবি জানানো হয়।
বক্তারা জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মকান্ড সমালোচনা করে বলেন ‌।

 

তারা বলেন ‌ জাতিসংঘ ‌ মানবতার নামে ‌ বিশ্বে ‌ বিভিন্ন ধরনের ছল চাতুরির ‌ আশ্রয় নিচ্ছে। এবং বিশ্বের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ‌ কোন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।

 

দিনের পর দিন নীরবতা পালন করেছে ‌। দিনের পর দিন ফিলিস্তিনি জনগনের উপর হামলা করা হলেও ‌ তাদের ভূমিকা রহস্যজনক। ইরানের উপর হামলা করা হলেও ‌ তাদের ভূমিকা রহস্যজনক।

 

মায়ানমারে রোহিঙ্গার ব্যাপারে ও এই সংগঠন ‌ রহস্যজনক ‌ ভূমিকা পালন করছে ‌ ‌। ফলে বছরের পর বছর রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের ভূখণ্ড বসবাস করছে। তাদের নিজেদের দেশে যেতে পারছে না। এখানেও জাতিসংঘ কোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেনি।বক্তারা বলেন ‌সারা বিশ্বে মুসলিম সম্প্রদায়ের উপর অত্যাচার করা হলেও ‌ তারা কোন কথা বলে না ‌।‌

 

এটি দিনের পর দিন ‌পশ্চিমাদের ‌ স্বার্থ‌ আদায় করে চলছে ‌।

 

অথচ এই সংগঠনটিকে বাংলাদেশ ‌ জায়গা দেবার যে পায়ে তারা সৃষ্টি হয়েছে ‌ তা কোনভাবে মেনে নেয়া যায় না ‌।
জাতিসংঘ মত প্রকাশের কথা বললেও ‌ সাধারণ মানুষ তাদের মতো অধিকার প্রয়োগ করতে পারছে না ‌।
বক্তারা বলেন ‌ এদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ‌ জাতিসংঘের‌ কার্যালয়ের অনুমোদন কিভাবে ‌ দিলেন ‌ তা জনগণ জানতে চায় ।

 

বক্তারা বলেন ‌ ফিলিস্তিনি জনগনের উপর ‌ ইসরাইলী বাহিনী ‌ খাদ্য সামগ্রী দেবার নাম করে ‌ যেভাবে অত্যাচার করা হচ্ছে ‌ যেভাবে মানুষ মার খাচ্ছে । ‌ সেখানে জাতিসংঘ কোন ভূমিকা রাখতে পারছে না ‌।
এ ধরনের মানবাধিকার আমরা চাই না ‌। অনতিবিলম্বে ‌ জাতিসংঘের অফিস করার যে ঘোষণা হয়েছে ‌ তা প্রত্যাহার ‌ করতে হবে ‌।

 

তা না হলে ‌ আগামীতে কঠোর আন্দোলন করা হবে ‌। বক্তারা বলেন ‌ মানবাধিকার নামে এদেশে কোন বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে ‌না। জনগন তা মেনে নেবে।

 

অনুষ্ঠানে পরবর্তী পর্বে ‌ গত সোমবার ‌ ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়িতে অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজে ‌ বিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ‌ মাগফেরাত কামনায় ‌ এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় দোয়া ও মোনাজাত ‌ অনুষ্ঠিত হয় ‌।